সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ৯:৪১ এএম


দেশের দেড় হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪১, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০৮:৫০, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চলতি মাসে বাংলাদেশ থেকে ব্যবহার হয় এমন দেড় হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলো থেকে উগ্র মতবাদ, ঘৃণাসূচক মন্তব্য, বিকৃত ছবি, উসকানিমূলক কথাবার্তা ছড়ানোর অভিযোগ ছিল অনেক আগে থেকেই।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, যে দেড় হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে ছিল দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাসহ পরিচিতজনদের নামে ফেক আইডি (ভুয়া) যার উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে। সূত্রটি থেকে আরও জানা যায়, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে দেশ থেকে নির্বাচিত ফোকাল পয়েন্টদের মাধ্যমে ফেক আইডি, পেজ, গ্রুপের লিংক বন্ধ করতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, সম্প্রতি দেড় হাজার ফেসবুক আইডি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। যেগুলো বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। জঙ্গিরাও বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করছিল।

এর আগে কয়েক দফায় কয়েক হাজার পর্নো সাইট ব্লক করেছে সরকার। এছাড়াও ১৭৬টি অনলাইন বেটিং সাইট বন্ধ করা হয়েছে সম্প্রতি। অনলাইন বেটিং সাইট ও পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সদ্য বন্ধ হওয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা জানতে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, অনেকেই বলছেন, যেহেতু পর্নো সাইট বন্ধ করছি ফলে ফেসবুক আইডিগুলোর সঙ্গে পর্নোগ্রাফির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। আসলে যে আইডি বন্ধ করা হয়েছে সেসবের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির কোনো সম্পর্ক নেই।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে কোনো অনুরোধ করলে তা তারা রাখতে চেষ্টা করে এবং এর বাস্তবায়নও হয় দ্রুত। এই বিষয়টিকে অনেক বড় অর্জন বলে মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

মন্ত্রী আরও জানান, চিহ্নিত করা আইডি, পেজ সবগুলো বন্ধ বা ব্লক করা হয়নি। শীঘ্রই আরও আইডি ব্লক বা বন্ধ করা হবে। উগ্র মতবাদ, ঘৃণাসূচক মন্তব্য, বিকৃত ছবি, উসকানিমূলক কথাবার্তা ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত আইডিগুলো চিহ্নিত করতে একটি শক্তিশালী গ্রুপ দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে ডট (ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম) সাইবার দুনিয়া মনিটর করতে জোরালোভাবে কাজ করছে। ডটের অধীনে শুরু হয়েছে সাইবার সিকিউরিটি মনিটরিং প্রকল্প। এই প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্প সক্রিয় হওয়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতাসীন দলের আইটি মনিটরিং সেল রয়েছে। সেই সেল এসব বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় গঠিত ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ এখনো কাজ করছে। সেসবের মিলিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে এখন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেল (এনটিএমসি)-সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আগের চেয়ে এখন মনিটরিংয়ে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে।

এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর