শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ২২:৪০ পিএম


দৃষ্টিপাত : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘ সময়সূচি

মাহফিজুর রহমান মামুন

প্রকাশিত: ১১:৩২, ৫ জুলাই ২০১৯  

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে তাদের বয়স পাঁচ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থী কোমলমতি শিশু। হাইস্কুল ও কলেজগুলোতে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তারা সবাই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের থেকে বয়সে বড়। তারপরও হাইস্কুল ও কলেজের সময়সূচির চেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি অনেক বেশি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ পর্যন্ত; অন্য দিকে হাইস্কুল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত; কলেজে তো সময়সূচির বাধ্যবাধকতা মানা হয় না। শিশু শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সবচেয়ে কম সময়সূচি হওয়ার কথা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, সেখানে এর সময়সূচি সবচেয়ে বেশি। এটা কোমল শিক্ষার্থীদের সাথে নির্মম কৌতুক করা নয় কি? তাদের এখন শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সর্বোৎকৃষ্ট সময়; অথচ তাদেরকে বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জোর করে ধরে রাখা হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথে অন্তরায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে অবস্থান করার কারণে তারা খেলাধুলা, বিশ্রাম ও গোসল করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় না।

অথচ উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিকের পর্যায়ে খেলাধুলা ও বিকাশমূলক কার্যাবলির প্রতি বেশি গুরুত্ব ও সময় দেয়া হয়। অন্য দিকে ছোট ছোট শিশুকে পাঠদান করা যে কত কঠিন তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারেন। তাদের চিৎকার, হৈ-হুল্লোড় ও দুষ্টামি সহ্য করে যে শিক্ষকেরা তাদের দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কী দাঁড়ায় তা সহজে অনুমান করা যায়। তাদের কাছ থেকে মানসম্মত পাঠদান পাওয়ার জন্য তাদেরকেও পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় দিতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান দীর্ঘ সময়সূচিতে শিক্ষকদের সেই বিশ্রামের কোনো সুযোগ আছে কি? তাই কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, প্রাথমিকের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা ভেবে বিদ্যালয়ের সময়সূচি কমানো হোক।


শিক্ষক ও ফ্রিল্যান্সার

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর