রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৫:১৯ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

দূর হোক এ কালান্তক ব্যাধি কোচিং বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের নীতিমালা বৈধ- হাইকোর্টের এ রায় তাৎপর্যপূর্ণ। নীতিমালায় শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না, এটা বলা হয়নি। তবে একটি সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য দুটি- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় পাঠদানের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ এবং কোচিংয়ের নামে বাণিজ্য বন্ধ করা। ২০১২ সালে জারি করা নীতিমালা কার্যকর করতে গিয়ে বিপত্তি এসেছিল একাধিক কারণে। কোচিং বাণিজ্য সূত্রে যারা প্রচুর আয় করেন এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে গৌণ করে তোলেন, তারা এ নীতিমালা পছন্দ করেননি। এখানেই তারা থেমে থাকেননি- এক পর্যায়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি করে দিলেন সর্বোচ্চ আদালত। এখন সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকদের সংগঠন এবং সংশ্নিষ্ট সবাই এ নীতিমালা কার্যকরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দ্রুত উদ্যোগী হবেন, এটাই প্রত্যাশা। বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটেছে।

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অন্তত পাঁচ কোটি ছাত্রছাত্রী। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্যও শিক্ষার অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। তবে প্রশ্ন আছে শিক্ষার মান নিয়ে। প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য যাদের রয়েছে, তারা শ্রেণিকক্ষে ঘাটতি হলে প্রাইভেট পড়ে তা পূরণ করে নিতে পারে। এ জন্য বড় শর্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য। সব শিক্ষার্থীর পক্ষে এ সুযোগ গ্রহণ করা বাস্তবেই সম্ভব নয়। তবে এর চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে ওঠে কোচিং বাণিজ্য।

অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের `ভালো শিক্ষকরা` কোচিংকেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শহর-বন্দর-গ্রাম, সর্বত্র কোচিংয়ে জড়িত অনেক শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কোচিং সেন্টারে বেশি সময় দেন। পাশাপাশি গড়ে উঠতে শুরু করে এমন সব কোচিং সেন্টার, যাকে সহজেই বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। দেশের সেরা হিসেবে পরিচিত বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। এর সুযোগ গ্রহণ করে কোচিং সেন্টারগুলো।

অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এসব সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কোনো কোনো কোচিং সেন্টার জড়িত, বিভিন্ন সময়ে এ অভিযোগ উঠেছে এবং তা একেবারে অমূলক বলা যাবে না। সঙ্গত কারণেই কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবি উঠেছে। এর পক্ষে জনমতও প্রবল। সরকারের নীতিমালার পক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আর কোনো বাধা আসবে না- এটাই আমরা বিশ্বাস করতে চাই। শিক্ষকদের অবশ্যই শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অপ্রতুল বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের দাবি রয়েছে এবং তা সরকারকে অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু জ্ঞানের জগতে কালান্তক ব্যাধি হিসেবে যে কোচিং বাণিজ্য চলছে, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এডুকেশন বাংলা /এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর