বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:৪৮ পিএম


দুই শিক্ষক মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছিল: নুসরাতের বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ৩০ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫৯, ৩০ জুলাই ২০১৯

নুসরাত হত্যা মামলাফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার সাক্ষী তার বাবা একেএম মুসা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার (২৯ জুলাই) তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, মূল আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতারের দিনই দুই মাদ্রাসাশিক্ষক মামলা তুলে নিতে তার ছেলেদের হুমকি দিয়েছিল। হুমকি দেওয়া শিক্ষকরা হলো−হাফেজ আবদুল কাদের ও আফসার উদ্দিন।

রাফির বাবা বলেন, ‘২৭ মার্চ আমি কর্মস্থলে ছিলাম। আমার স্ত্রী মোবাইল ফোনে জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা দফতরি নূরুল আমিনকে দিয়ে আমার মেয়ে নুসরাতকে তার রুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে থানায় নিয়ে আসে। ওইদিন আমার স্ত্রী মামলা দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের ও আফসার উদ্দিন মামলা তুলে নিতে আমার ছেলেদের হুমকি দেয়।’

রাফির বাবা আদালতে আরও বলেন, ‘২ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর পর থেকে আমার বড় ছেলে নুসরাতকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতো এবং পরীক্ষা শেষে নিয়ে আসতো। অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের পর তার অনুসারী কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন করলে আমার মেয়ে মানসিক কষ্ট পায়। তারা খারাপ লোকের শাস্তি দাবি না করে উল্টো মুক্তি চাওয়ায় ন্যায়বিচার পাবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। তারপরও নুসরাত শেষ দেখে ছাড়বে বলে আমাদের বলতো।’

নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তার বাবা একেএম মুসা ছাড়াও নুসরাতের চাচাতো ভাই মুহাম্মদ আলী ও মামা সৈয়দ সেলিমের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান এবং ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সোমবার (২৯ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়।

জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত বাদীসহ ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ, প্রদীপ বিশ্বাস, জান্নাতুল ফেরদৌস, আবু তাহের, আরমান বিন আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম, একেএম মনিরুজ্জামান এবং অর্চনা পালসহ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু।

২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর