রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:০৩ পিএম


দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক :

প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ২৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫৯, ২৬ অক্টোবর ২০১৯

ভালোবেসে একসময় পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকতাকে। ভেবেছিলেন জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার মতো মহৎ কাজ আর হতে পারে না। সেই থেকেই শুরু। সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলেও মন থেকে অবসরে যাননি এই শিক্ষক। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরও দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বেলে যাচ্ছেন তিনি। বলছি ড. নুরুল ইসলামের স্যারের কথা ৷

সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই নিজের পাবলিসিটি চান না বলে জানান তিনি। পরে এই প্রতিবেদকের অনুরোধে শুনিয়েছেন নিজের জীবনের গল্পের কিছুটা।

জানান, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। সেখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর পিএসসির পরীক্ষায় পাস করে ১৯৭৬ সালের ২ জুলাই ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। সেই থেকে শিক্ষকতা শুরু। এরপর সরকারি বাঙলা কলেজ, মুন্সিগঞ্জ সরকারি কলেজ, করোটিয়া কলেজে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। সর্বশেষ মুন্সিগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ২০০১ সালে অবসরে যান।

এর পরের গল্পটা একটু ভিন্ন। তিনি জানান, ২০০১ সালে অবসর গ্রহণের পর এক থেকে দুই মাস বাসায় বসে ছিলাম। একদিন হঠাৎ ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান ম্যাডাম আমাকে ফোন করে বললেন, ‘আমাদের শিক্ষক সংকট আছে, আপনি অতিথি শিক্ষক হিসেবে আমাদের কলেজে ক্লাস নিন।’ তখন আমি প্রস্তাবে রাজি হই এই শর্তে যে, কোনো পারিশ্রমিক নেব না। তারপর থেকে আজ অবধি ঢাকা কলেজেই ক্লাস নিয়ে যাচ্ছি।

স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসরে গেছেন উল্লেখ করে শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নিজের কোনো সন্তান নেই। আমার সব শিক্ষার্থীই আমার সন্তান। নিজের সন্তান মনে করে বাবার দায়িত্ব হিসেবে আমি তাদের ক্লাস নেই।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশাটি ভালোবাসার, এটা আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। আমি আমার গুণীজন শিক্ষকদের থেকে যা কিছু শিখেছি তাই আমার ছাত্রদের কিছুটা হলেও শেখানোর চেষ্টা করি। ভালোবেসেই এই মহান পেশাকে বেছে নিয়েছিলাম, তাই এখনও ছাড়তে পারিনি।’

‘যদিও বার্ধক্য চেপে ধরেছে, তবুও যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন এই মহান পেশায় আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাসে থাকতে চাই। আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু চাই সুস্থ থেকে বাকিটা জীবন যেন এভাবে কাটাতে পারি’-বললেন এই শিক্ষক।

প্রবীণ এই শিক্ষককে পেয়ে বিভাগের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী খুব খুশি। প্রায় সব শিক্ষার্থীর মন্তব্য এই রকম- ‘এমন শিক্ষকের সংস্পর্শে আসতে পেরে আমরা ধন্য।’

ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার অনেক ভালো মানুষ। এমন মানুষ আজকাল পাওয়া যায় না। কোনোরকম পারিশ্রমিক ছাড়াই তিনি শুধুমাত্র শিক্ষকতাকে ভালোবেসে আমাদের এখানে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন।’

সূত্র : জাগো নিউজ/এডুকেশেন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর