বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯ ৩:১৩ এএম


কারিগরি শিক্ষাবোর্ড

দারোয়ান থেকে পদোন্নতি পেয়ে শাখা বিশেষজ্ঞ !

প্রকাশিত: ০৩:০৩, ৩ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৭:০৫, ৩ জুন ২০১৮

বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ, অবৈধভাবে পদোন্নতি দেয়ার মতো অসংখ্য অভিযোগও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।তবে সংশ্লিষ্টরা এ ক্ষেত্রে নিয়োগ বিধিকে দায়ী করেছেন।তারা বলছেন, নিয়োগ বিধির দুর্বলতার কারণে দারোয়ান থেকে পদোন্নতি পাচ্ছে। হচ্ছেন বড় কর্তা।

কিছুদিন আগে এসএম শাহজাহান নামে একজনকে কয়েকটি ধাপ ডিঙিয়ে সরাসরি ৫ম গ্রেডে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পদোন্নতির আগে তিনি ৮ হাজার টাকা স্কেলে চাকরি করতেন। এই কর্মকর্তা নিুমান সহকারী হিসেবে বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন। তারমতো পঞ্চম গ্রেডে ৭-৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 রজব আলী নামে এক কর্মচারীর এসএসসি পাসের দুই সনদ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। দারোয়ান থেকে একজন পদোন্নতি নিয়ে এখন কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ বনে গেছেন। এভাবে এসএসসি পাস আরও বেশকিছু কর্মচারী দিন দিন কর্মকর্তা হয়েছেন। এদের অনেকেই যোগদানের পর বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় পাস করে এখন নামের আগে ‘ডক্টর’ ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। কারিগরি সেক্টরে এ ধরনের ৩৯ জন ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারী আছেন বলে জানা গেছে।

বোর্ডে এমন অসংখ্য কর্মকর্তা আছেন যারা কর্মচারী হিসেবে চাকরি নিয়ে এখন বড় কর্তাব্যক্তি। ওইসব ব্যক্তির অনেকেরই পদোন্নতিতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়নি। অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার রেকর্ডও কম নয়।

বকারিগরি শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন-ব্যবসা, অবৈধভাবে নতুন বিভাগ-ট্রেড খুলতে সহায়তা, ভুয়া শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন, ফল জালিয়াতি, অন্যের প্রতিষ্ঠান দখলে সহায়তাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছেন বোর্ডের চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি। বোর্ডে চাকরিরত অবস্থায়ও অনেকেই বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। ফলে বোর্ডের নিয়ম-কানুন নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার ও তৈরির অভিযোগ আছে। আছে কেনাকাটায় অনিয়ম, বকশিশের নামে ঘুষ, ঘুষ না পেলে হয়রানি, একই কাজের জন্য বারবার সম্মানী নেয়া, ভুয়া ভাউচারে বিল ও সম্মানী নেয়ার অভিযোগ।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, অতীতে বোর্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমবেশি অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে কোনো ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। 

কারিকুলাম শাখায় নিয়োজিত বেশির ভাগ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান নেই। দারোয়ান থেকে পদোন্নতি পেয়ে এ শাখায় বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকা লোকও আছে। ফলে তারা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে কী শিক্ষাক্রম তৈরি করবেন সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ ইস্ট পাকিস্তান টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড নামে বর্তমান বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্রেড পর্যায়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সনদপত্র প্রদান, পরিদর্শন ও মূল্যায়নের কাজ করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর