সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:০৫ এএম


দারুল ইহসান সনদধারি শিক্ষক-কর্মচারিদের ভাগ্য এখন ইউজিসির হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩২, ২৫ জুন ২০১৮   আপডেট: ২০:০৯, ২৬ জুন ২০১৮

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষক-কর্মচারিদের ভাগ্য এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হাতে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বন্ধ হওয়া বেসরকারি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের সনদ মূল্যায়নে ইউজিসির মতামত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার (২৪ জুন) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই মতামত চাওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘আদালতের রায়ের আলোকে কর্মরত বেসরকারি শিক্ষকদের সনদের গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নে ইউজিসির মতামত চেয়েছি। ইউজিসির মতামতের পর রায়ের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রবিবার বিকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদের সভাপতিত্বে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত বৈঠক হয়। এতে উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিরূপণে ইউজিসির মতামত চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩টি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। এতে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা এবং এই নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে বলা হয়, আইনের দৃষ্টিতে দারুল ইহসান কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নয়। তবে সনদ অবৈধ ঘোষণা করেননি আদালত।

রায় প্রকাশের পর দারুল ইহসানের সনদধারী বিভিন্ন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তিতে জটিলতা দেখা দেয়। নতুন এমপিভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের এমপিওভুক্তিও বন্ধ হয়ে যায়। ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর পদে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। ফলে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এই জটিলতা নিরসনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর গত বছরের ১২ অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দারুল ইহসানের সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে রায়ের আগে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে পত্র দেয়। ওই পত্রে বলা হয়, হাইকোর্টের রায়ের আগে ইনডেক্সধারী হওয়ায় তাদের এমপিওভুক্তি ও বিএড সনদধারীদের সনদের গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ঘোষিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সনদধারীদের (আদালতের রায়ের আগে) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মস্থল পরিবর্তন ও উচ্চপদে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয় এই চিঠিতে।

মাউশির ওই চিঠিতে ব্যারিস্টার এস এম আতিকুর রহমানের মতামত উদ্ধৃত করে বলা হয়, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদধারীকে নতুন করে কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, তাদের সনদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার দিয়েছেন। সে কারণেই দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করা শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মস্থল পরিবর্তন ও উচ্চ পদে পদোন্নতি এবং বিধি মোতাবেক নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ দেওয়া হবে, আর তা হবে রায়ের আলোকেই।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেছিলেন, আমরা রায়ের আলোকেই ব্যবস্থা নেবো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি যদি বিধি মোতাবেক নিয়োগ করে, এমপিও দেওয়ার যথাযথ সুপারিশ করে, তাহলে মাউশি এমপিও থেকে বাদ দিতে পারে না। কারণ, রায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল কর্তৃপক্ষ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি। অর্থাৎ, গভর্নিং বডি ও এমপিও কমিটির সুপারিশ থাকলেই সরকার তার এমপিও ছাড় করতে পারবে। অন্যদিকে, যারা এমপিওভুক্ত তারা কর্মস্থল পরিবর্তন ও উচ্চপদে পদোন্নতি পেতে পারেন। কারণ, দায়িত্ব যথাযথ কর্তৃপক্ষের।

বিষয়টি সুরাহা করতেই মন্ত্রণালয় বৈঠক করে ইউজিসির মতামত চেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর