সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১২:১৩ পিএম


দাবি পূরণে স্বস্তি ফিরছে বুয়েটে

বিভাষ বাড়ৈ

প্রকাশিত: ১২:২৯, ৪ আগস্ট ২০১৯  

নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণে স্বস্তি ফিরছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের মাঝে। ১৬ দফা দাবি পূরণের লিখিত আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও ক’দিন ধরেই ছিল অসন্তোষ। তবে বিতর্কিতকে অব্যাহতি দিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক নিয়োগসহ প্রধান কয়েকটি দাবি পূরণে এবার খুশি শিক্ষার্থীরা। ছাত্রী হলের নামকরণসহ বাকি দাবি পূরণে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় তারা। ঈদের পরপরই মন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠক হতে পারে। এর আগে সম্প্রতি টানা আন্দোলনে ক্লাস, পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ চার ঘণ্টার বৈঠকের পর অচলাবস্থার অবসান হতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের সব দাবিকে যৌক্তিক অভিহিত করে তা পূরনের ঘোষণাও দেন শিক্ষামন্ত্রী। কবে কোন দাবি পূরণ করা হবে তিনি তাও জানিয়ে দেন। অবশ্য শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নোটিশ আকারে জানালেই ক্লাসে ফিরবেন তারা।

এমন এক অবস্থায় দাবি মেনে নেয়ার লিখিত আশ্বাস (নোটিশ) পেয়ে ক্লাসে ফেরে ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীরা। তবে তারা বলেছিলেন, আমরা নোটিশ পেয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি দাবি পূরণে অযথা সময়ক্ষেপণ করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্য রাস্তায় নামব, দাবি আদায়ে কোনো নয়ছয় সহ্য করা হবে না।

বলা হয়েছিল, সাবেকুন নাহার সনির নামে ছাত্রী হলের নামকরণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন পর্যালোচনা করে ছাত্রী হলের নাম বদল বিষয়ে অভিমত দিতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়েছে। ডাবল সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষার বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবাসিক হলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পাদনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানায় শিক্ষা প্রশাসন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজের অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা দেবেন।

অন্যান্য দাবি পূরণের লিখিত আশ্বাস দেয়া হয়। ওই আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরলেও দাবি পূরণে উপাচার্যের অনাগ্রহের অভিযোগ আসায় অসন্তোষ কাটছিল না। এতে বুয়েটজুড়ে ছিল অস্বস্তি। তবে আন্দোলনেরও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঠিক এমন অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্বরিৎ পদক্ষেপে পাল্টে যায় বুয়েটের চিত্র। যদিও এখন পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তবে মন্ত্রণালয়ের সক্রিয়তায় শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিতর্কিত নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে (ডিএসডব্লিউ) অব্যাহতি দিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব ডিএসডব্লিউ নিয়োগ। খুশি শিক্ষার্থীরা। বুয়েটে জনপ্রিয় ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে হঠাৎ করে সরিয়ে উপাচার্য সেখানে বসিয়ে দেন অধ্যাপক আবুল কাশেম মিয়াকে। এ থেকেই শুরু হয় সঙ্কট।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত অন্যতম প্রধান দাবি ‘বিতর্কিত নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে অপসারণ করে ছাত্রবান্ধব ডিএসডব্লিউ নিয়োগ দিতে হবে’। আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে ফিরিয়ে আনা না হলেও সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান পুরকৌশল বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি বুয়েটের সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট এবং শেরে বাংলা হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দীর্ঘদিন সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বুয়েট সেফটি মুভমেন্ট ক্লাবের মডারেটরের দায়িত্বও তিনি সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।

অধ্যাপক মিজানুর রহমানের নিয়োগকে বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা। ওদের অন্যতম এক কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রবিন বলছিলেন, নতুন ডিএসডব্লিউ স্যারকে পাওয়া আমাদের জন্য একটি বড় পাওয়া। আমরা মনে করি সত্য প্রসাদ মজুমদার ছিলেন বুয়েটের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিএসডব্লিউ। তবে এখন আমরা মনে করছি মিজানুর রহমান স্যার হয়তো জনপ্রিয়তায় সবার চেয়ে সামনে থাকবেন। তিনি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। স্যার শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে সব সময় কাজ করেছেন। এছাড়া আরও তিন/চারটি দাবি পূরণ করা হয়েছে। আমরা এখন স্বস্তি ফিল করছি।

আন্দোলনে সক্রিয় পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলছিলেন, এখন বুয়েটের অবস্থা ভালো। চারটির মতো দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা খুশি। সবচেয়ে ভালো হয়েছে যে আমাদের নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক হিসেবে মিজানুর রহমান স্যারকে নিয়োগ দেয়া। কারণ তাকে আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে দেখেছি। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব। আমাদেরও দাবি ছিল এমন একজন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক নিয়োগ দেয়া হোক যিনি শিক্ষার্থীবান্ধব, যিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করায় বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া, সুবিধা-অসুবিধা এবং আশা আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অবগত।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াত আহমেদ মুন্না সক্রিয় ছিলেন আন্দোলনে। তিনি বলছিলেন, চার থেকে ৫টির মতো দাবি ইতোমধ্যেই পূরণ করা হয়েছে। বুয়েটে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে। নতুর ডিএসডব্লিউ হিসেবে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেয়ায় আমরা সকলে খুশি। এটা আমাদের জন্য একটি বড় সুখবর। বাকি দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আমরা খুশি। তবে ছাত্রী হলের নামকরণসহ কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠকের কথা ছিল। মাননীয় মন্ত্রীর স্বামী গুরুতর অসুস্থ তাই বৈঠকটি ঈদের পরপই হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। নতুন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ডেঙ্গু চড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি বলছিলেন, আমি শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সব সময় কাজ করতে চাই। আশাকরি সকলে আমাকে সহযোগিতা করবেন। সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমি দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে চাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বুয়েট পরিবারের সকলের কাছে রোগমুক্তির জন্য দেয়া চেয়েছেন বুয়েটের এ অধ্যাপক।



এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর