বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২০ ০:১৩ এএম


দাখিল পাশ করেই এমবিবিএস ডাক্তার!

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৪৫, ৩০ জানুয়ারি ২০২০  

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় রেজাউল করিম নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর ধরে জাল সনদপত্র দিয়ে ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসক সেজে স্থানীয় অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। তাঁর অপচিকিৎসায় অনেকে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু তিনি নিজে চিকিৎসা বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। এই প্রতারক রেজাউল করিম উপজেলার পশ্চিম সাতলা গ্রামের মৃত আদম আলী সরদারের ছেলে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী ও কোটালীপাড়া উপজেলার পূর্ব-দক্ষিণ সীমান্তের পশ্চিম সাতলা গ্রামে ‘মায়ের দোয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলেছেন রেজাউল করিম। সেখানে বসে বছরের পর বছর ধরে গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের দিনমজুর ফোরকান মিয়া তাঁর ছয় বছরের অসুস্থ শিশুপুত্র হাসানকে গত ২৩ জুন মায়ের দোয়া ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। পরে ১৮ হাজার টাকার চুক্তিতে রেজাউল করিম হাসানকে চিকিৎসা করাতে রাজি হন। হাসানের পায়ুপথে ছুরি দিয়ে অপারেশনে করেন তিনি। এতে শিশু হাসান পায়ুপথের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যায়। এ অবস্থায় দরিদ্র বাবা সহায়-সম্বল বিক্রি করে হাসানকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে হাসানের পেট কেটে বিকল্প উপায়ে পায়ুপথ তৈরি করা হয়।

এ ঘটনার পর ফোরকান মিয়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে বরিশালের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তে উঠে আসে, রেজাউল করিম একজন ভুয়া চিকিৎসক। তাঁর সব সনদপত্র ভুয়া।

নয়াকান্দি গ্রামের মতলেব হাওলাদার, ফরাজিবাড়ির শাহজাহান সরদার, রাজাপুরের নুরু হাওলাদারসহ অনেক রোগী রেজাউল করিমের অপচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব রোগীর পরিবারের লোকজন অসচ্ছল হওয়ায় রেজাউলের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০০৩ সালে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা মাদরাসা থেকে জিপিএ ৩ পেয়ে দাখিল পাস করেন রেজাউল করিম। এরপর আর তিনি পড়াশোনা করেননি। পরে এইচএসসির ও এমবিবিএসের জাল সনদপত্র তৈরি করেন।

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ‘রেজাউলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলেই তাঁর বড়ভাই রুহুল আমিন রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে হয়রানি করছেন।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেজাউল করিম দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, ‘দেশে এমন কোনো সংস্থা নেই যে রেজাউল ডাক্তারের কিছু করবে। আমি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়েই এখানে ক্লিনিক তৈরি করে ডাক্তারি করছি।’

বরিশালের সিভিল সার্জন মনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘তাঁর সব সনদপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা ভুয়া বা জাল বলেই প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেই আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বারবার পিছিয়ে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছি।’

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর