রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৭ পিএম


তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আসামি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:০৯, ১৯ মার্চ ২০২০  

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম নজরুল ইসলাম। মারধর ও ছিনতাইয়ের সাজানো ওই মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয় ঘটনার সাত দিন পর গত শনিবার। মামলা নম্বর ৫। অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা মামলা এবং শিশু শিক্ষার্থীকে জড়ানোর ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ওই মামলার বাদী আব্দুল বাকেরের লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে থানা থেকে ১০০ গজ দূরে হামলা ও মারধর করে সোহরাব হোসেন নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর দুই লাখ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৮ নম্বর আসামি নজরুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার সাত দিন পর পুলিশ অর্থের বিনিময়ে মামলাটি নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি সোনা মিয়াকে পুলিশ গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে।

উপজেলার জাউনিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা ওই মামলার ৪ নম্বর আসামি তারা মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে নজরুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমরা ঘটনার কিছু জানি না। অথচ আমাকেসহ আমার দুই ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ খোঁজখবর না নিয়েই টাকার বিনিময়ে মামলাটি গ্রহণ করে।’

জাউনিয়ার চর সাকসেস প্রি-ক্যাডেট একাডেমির প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু নজরুল ইসলাম। সে লেখাপড়ায় বেশ ভালো। তাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করার খবর শুনে আমি হতবাক।’ একই মামলার আসামি আব্দুর রশীদ বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা সেদিন আমি ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন ছিলাম। অথচ আমাকেও আসামি করা হয়েছে।’

রাজীবপুর থানার ওসি গোলাম মোর্শেদ তালুকদার বলেন, ‘বয়স বেশি উল্লেখ করায় আমরা জানতাম না ওই আসামি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করার আগে আমরা ওই শিশুর নাম বাদ দিয়ে দেব।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর