বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০ ১২:১৫ পিএম


তথ্য গোপন করে স্কুলে ৩৪ বছর শিক্ষক পদে চাকরি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:০৩, ১৭ জুন ২০২০  

শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান জেলা শহরসহ বিভিন্ন গ্রাম ও জেলার বাইরে ওয়াজ করে ফেরেন। ধর্মীয় বিধি-বিধানের ওপর তিনি ওয়াজ করেন। ওয়াজে বেশ সুনাম আছে। কিন্তু তিনি তথ্য গোপন করে মেহেরপুর কোটায় মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) পদে চাকরি করে আসছেন ৩৪ বছর ধরে। তার বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার দশানি গ্রামে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধর্ম বিষয়ের এ শিক্ষক জেলা কোটার তথ্য গোপন করে ১৯৯৪ সালে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) হিসেবে চাকরি নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি নাগরিক হিসেবে দেখিয়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম। ওই গ্রামের মো. জমির উদ্দীন মাস্টারকে প্রযত্ন দেখিয়েছেন। আর্থিক সহযোগিতায় বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিকত্ব সনদপত্র পেতে মৃত জমির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে সাজু ও সাইদ হোসেন দায়িত্ব পালন করে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের চাকরির গেজেটে জন্ম তারিখ ০২-০১-১৯৭২ ইং, রোল খু/মে ৬৫৭৮(খু/মে অর্থ খুলনা-মেহেরপুর)।

 শিক্ষাগত যোগ্যতা দাখিল দ্বিতীয়, আলিম ও ফাজিল প্রথম এবং কামিল দ্বিতীয় শ্রেণি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান চাকরিতে যোগদানের পর ২০১৫ সালে যশোর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড করেন। সে সময় বিধিতে ছিল সাধারণ শিক্ষায় বিএ পাস করার পর বিএড করতে হবে। অথচ তিনি সমমানের মাদ্রাসা সনদ দিয়ে বিএড করেছেন।

সিদ্দিকুর রহমান ১৯৯২ সালে ইসলাম শিক্ষায় এমএ পাস করেন। একই সালে তিনি মাদ্রাসায় সমমানের সনদ অর্জন করেন। শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছেন মাদ্রাসার সার্টিফিকেট দিয়ে। অথচ বিএড করেছে ইসলাম শিক্ষার (সাধারণ শিক্ষা) সার্টিফিকেট দিয়ে। দুই প্রতিষ্ঠানের দুই রকম সার্টিফিকেট একই সময়ে কীভাবে অর্জন করা সম্ভব সেটি একটি বড় প্রশ্ন। উত্তর না মিললেও একটি সূত্র জানিয়েছে জাল সনদে তিনি বিএড করেছেন। এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মেহেরপুরের কোটায় চাকরি নেয়া ঠিক হয়নি। তবে বর্তমানে তিনি মেহেরপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে রহমান বলেন, চাকরি বিধি অনুযায়ী কেউ যদি তথ্য গোপন করেন সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাব। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, তথ্য গোপন করে চাকরির প্রমাণ থাকলে তার চাকরি থাকার কথা নয়। তদন্তে তথ্য গোপন যদি প্রমাণ হয় তাহলে তাকে চাকরি হারাতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিভা রানী পাঠক বলেন, যেকোনো সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকা কর্তৃক সরবরাহকৃত যেকোনো তথ্য/সনদপত্র মিথ্যা/ভুয়া/ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে তার বা তাদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হবে এবং প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা চাকরির অন্যতম শর্ত।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর