রবিবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৪:০০ এএম


ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মির্জা জাকির, চাঁদপুর

প্রকাশিত: ১১:৫৮, ২২ নভেম্বর ২০১৯  

মিথ্যাচারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানটিতে এর দ্বিগুণ তিনগুণ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী। শুধু তাই নয়, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞান শাখায় ৩.৫০, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২.৫০, মানবিক শাখায় ২.০০ প্রচার করলেও বোর্ড থেকে ১.০০ জিপিও-তে ভর্তি অনুমোদন রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দুই-এর নিচে জিপিএ নিয়েও অনলাইনে আবেদন করতে পারে।

অথচ প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকরা বিজ্ঞাপনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড- কুমিল্লা হতে ১৭ এপ্রিল ২০১৬ সালে দুই বছরের জন্য পাঠদানের অনুমতি পায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। একই বছরের ৪ এপ্রিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেয়া হয়। নির্ধারিত দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও তারা চাঁদপুর শহরের ১২২২/১১২৩ স্টেডিয়াম রোড (ফায়ার সার্ভিসের বিপোরীত পাশে) ঠিকানায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটি অস্থায়ী স্বীকৃতিপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করে। আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথিতে প্রতিষ্ঠানটি আশ্রয় নিয়েছে মিথ্যার। বিশেষ করে চাঁদপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসি ল্যান্ড) অফিসের যে প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে তাতে জাল-জালিয়াতি করা হয়েছে। সহ-ক-ভূমি-চাঁদ-বিবিধ-১৯/ ৪৮৭ স্মারকে যে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয় তা সম্পূর্ণ জাল। যা সরাসরি সরকারের পরিপত্র জাল-জালিয়াতির অপরাধের মধ্যে পড়ে।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৮ নং দাসাদী মৌজায় এসএ -৩০৯নং খারিজি ৬৫৯, হাল খারিজি ১৭৩১ নং খতিয়ানে, এসএ ৭০৯ নং দাগে ৭৫ শতাংশ (অখণ্ড) ভূমির মালিক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুর (ডিআইসি) ওয়ার্ড নং-১৪ বাবুরহাট মডেল টাউন, বাবুরহাট ৩৬০২ চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। উক্ত ১৪২২-১৪২৫ বাংলা সনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা আছে। বর্তমানে ভূমিটিতে ৭৫ শতাংশের মধ্যে ১৪ শতাংশের ওপর ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ প্রত্যয়পত্রটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের দায়িত্বরত অধ্যক্ষ সত্যায়িত করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন। অথচ চলতি বছর উল্লেখিত স্মারকে কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়নি চাঁদপুর সদর এসি ল্যান্ড অফিস। সরেজমিন বাবুরহাট মডেল টাউনে গিয়ে দেখা যায়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভবন নির্মাণাধীন। অথচ তারা তাদের ডিজিটাল নকশাকে নির্মাণ সম্পন্ন ভবন বলে জমা দিয়েছে। এমনকি কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে ক্যাম্পাসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খেলার মাঠ ব্যবহার করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়ার নিয়ম নেই বলেও জানান বর্তমানে দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) ভূমি ইমরান হোসাইন সজিব। তিনি বলেন, চলতি বছরের ৪৮৭ স্মারকে এমন কোনো প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জামশেদুর রহমান জানান, আমরা অনেক শিক্ষার্থীকে নামমাত্র বেতনে পড়াই। যারা এসএসসিতে ভালো ফলাফল করেছে তাদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকি। পদ্ধতিগত কিছুটা ভুল হতে পারে, যা সংশোধন করা সম্ভব। তবে কোনো মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়া হয়নি। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শওকত ওসমান (শিক্ষা ও আইসিটি) জানান, তদন্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর