বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৪৪ পিএম


ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বিশেষ বিবেচনায় নেয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ০৯:৫৮, ৩ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৭, ৩ আগস্ট ২০১৯

প্রায় মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যক্রম ও কর্মসূচি পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামীকাল রোববারের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপসহ প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে একইদিনে দুটি নির্দেশনা জারি করেছে। সংস্থাটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সেল গঠন করেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বিশেষ বিবেচনায় নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত বৃহস্পতিবার জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, সম্প্রতি সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে সকল পর্যায়ে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ বিভাগ ও এর অধীন অধিদফতর-দফতর-সংস্থা এবং বিভাগীয়-আঞ্চলিক ও জেলা-উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস ও নিজ নিজ বাসস্থানে সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বনসহ অবিলম্বে চার দফা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে- নিজ নিজ অফিস, গৃহ, আঙ্গিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে; পরিষ্কার রাখতে হবে বাসস্থান ও জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে; সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাখা ফুলের টব, বাসস্থানের ছাদ বাগানসহ পানি জমে থাকে এমন সকল পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাপারে সারা দেশ থেকে কালকের মধ্যে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে মাউশিতে। এছাড়া প্রতিমাসের ১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

এর আগে গত ২৫ জুলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছিল, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সতর্কতা অবলম্বন করলে এ রোগ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি রোগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠ এবং ভবনগুলোর মাঝে পানি জমে থাকে- এমন জায়গা, ফুলের টবে জমে থাকা পানি এডিস মশার উপযুক্ত প্রজননক্ষেত্র। ডেঙ্গুর বিস্তাররোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চারটি নির্দেশনা দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে- খেলার মাঠ ও ভবনগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে; মাঠ কিংবা ভবনে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যেসব ফুলের টব রাখা রয়েছে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে; ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে।

মনিটরিং সেল গঠন ও সেল প্রধানের ফোন বন্ধ : এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাউশি একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে। সংস্থার উপপরিচালক জহিরুল আলমকে এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ডেঙ্গু কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে নিযুক্ত কর্মকর্তারা ওই সেলে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাফতরিক ফোনে (নম্বর ৯৫১৪৫৭৬) ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে (নম্বর ০১৭১৭-২৮৫২৮৯) জানাতে বলা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনা জারির পর থেকেই সেল প্রধানের ফোন বন্ধ আছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আক্রান্ত শিক্ষার্থীর বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা : ডেঙ্গু আক্রান্ত বা গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বিশেষ বিবেচনায় গ্রহণ করতে সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসা সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীর অসুস্থতা প্রমাণ করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে দেশের সব স্কুল-কলেজের প্রধানদের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, গুরুতর রোগে আক্রান্ত হলে কোনো শিক্ষার্থী যেমন পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তেমনি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদেরও পরবর্তীতে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু বা অন্য কোনো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা অবশ্যই চিকিৎসায় প্রমাণিত হতে হবে।
এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর