শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯ ১৫:১৮ পিএম


ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের প্রতিবেদন চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:০৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পরীক্ষা করতে এক মাস সময় নেওয়ার এক দিন পরেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় কমিটি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মঙ্গলবার বৈঠক করে বিলটি নিয়ে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই প্রতিবেদন পেশ করা হতে পারে। সংসদীয় কমিটি প্রস্তাবিত আইনের কিছু ক্ষেত্রে সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধনীর সুপারিশ করেছে।

গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর থেকে এর সমালোচনা হচ্ছে। ৯ এপ্রিল বিলটি সংসদে তোলার পর তা এক মাসের মধ্যে পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি নিয়ে সংসদীয় কমিটি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করে। পরে কমিটি সংসদের কাছ থেকে আরও দুই মাস সময় নেয়। সোমবার আরও এক মাস সময় নিয়েছিল কমিটি। তবে মঙ্গলবার বৈঠকের পর সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার কথা সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, “সংসদীয় কমিটি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। বিলের বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে। সাংবাদিকদের প্রস্তাবনা মোতাবেক অনেক পরিবর্তনও এসেছে।”এক মাস সময় নেওয়ার পরদিনই বিল চূড়ান্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরান বলেন, “আগে নেওয়া দুই মাস সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই সময় নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া বৈঠকে যদি বিল চূড়ান্ত করা না যেত তাহলে তো আরও বৈঠক করতে হতো।”

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে এই বিলটি নিয়ে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়নি। এর আগের কয়েক দফা বৈঠকে ১৬টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব ছিল। মূলত সেগুলোই চূড়ান্ত করা হয়।

বিতর্কিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাখা হয়েছিল। এই বিলটির আটটি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে বৈঠক করেছিল সংসদীয় কমিটি। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনটি পাস করার সময় সবার মতামতই আমলে নেওয়া হবে।

যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন
প্রতিবেদনে কী আছে, সংসদীয় কমিটির সভাপতি না বললেও কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের কয়েকটি সংযোজন-বিয়োজনের কথা জানান।

প্রস্তাবিত আইনের ২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংজ্ঞা যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সংবিধানের প্রস্তাবনায় যে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে সেটাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংজ্ঞা।

২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত অবমাননার বিষয় যুক্ত করা প্রস্তাব করা হয়েছে।

২৫ নম্বর ধারার ‘খ’ উপধারা (এমন কোনো তথ্য সম্প্রচার বা প্রকাশ করা যা কোনো ব্যক্তিকে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ করতে পারে) বাতিল এবং সব মিলে দুটি উপধারা করা।

২১ ধারায় সাজা যাবজ্জীবনের ক্ষেত্রে ১৪ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ সাজার কথা আইনে বলা হয়েছে। অপরাধ বিবেচনায় আদালত ঠিক করবে সর্বনিম্ন সাজা কতদিন হবে। ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি গুপ্তচরবৃত্তি নির্ধারণ করতে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অনুসরণ করতে বলেছে।

বিলের ৫ নম্বর ধারায় ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির একজন মহাপরিচালকের সঙ্গে দুজন পরিচালক যুক্ত করা, ১২ ধারায় জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একজন প্রতিনিধি রাখা (তথ্য মন্ত্রণালয় এই প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে)।

প্রস্তাবিত ৫৩ ধারায় আগে ছিল অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। সেটা ১৮০ কার্যদিবস করা এবং মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ দিনের পরিবর্তে ৯০ কার্যদিবস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত ও ভাষাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান সংসদীয় কমিটির ওই সদস্য।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর