রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ৯:০৮ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

ডাকসু নির্বাচন আমাদের কী শিক্ষা দিল

প্রকাশিত: ০৯:০৩, ১৩ মার্চ ২০১৯  

 আব্দুল্লাহ আল মাউন

১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না।

পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোও তাকিয়েছিল ডাকসু নির্বাচনের দিকে। পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনের টকশো থেকে শুরু করে প্রায় সবখানে ডাকসু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

অধিকাংশ আলোচনায়ই একটা প্রশ্ন সবার মধ্যে ঘুরেফিরে এসেছে- ডাকসু নির্বাচন কতটা সুষ্ঠূ হবে কিংবা আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা। অবশেষে ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল; তবে আমাদের সবার মনে একটি প্রশ্ন জেগেছে- আসলে ডাকসু নির্বাচন আমাদের কী শিক্ষা দিল? ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে আশার আলো টিমটিম করে জ্বলছিল, আশার সেই প্রদীপটি এবার নিভে গেল কিনা, সে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে অনেকের মনে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসুতেও জাতীয় নির্বাচনের ছায়া দেখতে পেয়েছেন তারা ।

জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা বিরাট তফাৎ আছে, তা বলাই বাহুল্য। ডাকসু নির্বাচনে যারা ভোটার ছিলেন, তারা সবাই সচেতন, শিক্ষিত ও মার্জিত রুচির অধিকারী।

অপরপক্ষে ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সমতুল্য শিক্ষক। মাত্র তেতাল্লিশ হাজারের কিছু বেশি ভোটার নিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে এবং কোনোরকম ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনেরর আয়োজন করা তেমন কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল না।

শিক্ষকরা যে দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী হোন না কেন (শিক্ষকের কাছে সব শিক্ষার্থী সমান), তাদের উচিত ছিল কোনো অভিযোগের তীর যাতে নির্বাচনকে কলুষিত না করে, এ ব্যাপারে আগে থেকেই নজর দেয়া। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি, অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও সিল মেরে রাখার অভিযোগে কুয়েত- মৈত্রী হলে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সহ-উপাচার্য ও প্রক্টর মহোদয়কে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে স্বয়ং দেশের শিক্ষক সমাজ বিব্রতবোধ করছেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অতীতে যোগ্য, ত্যাগী ও আদর্শ নেতৃত্ব পেয়েছি। দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় দেশ যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

পত্রিকায় অনেককে লিখতে দেখেছি- তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগটা এভাবেই নষ্ট হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বেশি। তরুণরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আসতে পারছে না বলেই এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

কিন্তু নেতৃত্ব তৈরির সর্বশেষ যে আশার আলো ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আশা করেছিলাম, তা আবারও ব্যাপক কারচুপি, মারামারী ও ভোটের আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার মতো বিভিন্ন অভিযোগ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করার মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে অনেকটাই হতাশ করেছে। এবারের ডাকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়া দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা ভাবতে হবে নতুন করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর