বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ৬:১৮ এএম


ডাকসুর জোবাইক: নেই নীতিমালা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:১৭, ৯ নভেম্বর ২০১৯  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থী জাকিয়া জ্যোতি। হলের সামনে বাইক লক করে রাখার পরও লক হয়নি জোবাইক অ্যাপে। ফলে পরবর্তী দিন পর্যন্ত এই শিক্ষার্থীকে ভাড়া গুনতে হয়েছে প্রায় ৮০০ টাকা। জোবাইক চালাতে গিয়ে এমন অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আনলক করার পর লক না হওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি, চার্জ না থাকা, বাইক অন না হওয়াসহ নানা সমস্যা নিয়ে ক্যাম্পাসে চলছে জোবাইক সিস্টেম। ফলে প্রথম দিকে জোবাইক নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা থাকলেও সেই উদ্দীপনা এখন আর নেই।

এদিকে জোবাইক চালুর পর এক মাস পার হলেও কোনো ধরনের নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবাইক কর্তৃপক্ষ। একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি হলেও তা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবাইক কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষর হয়নি। ফলে নীতিমালা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে জোবাইক।

নীতিমালা না হলেও তা হয়েছে বলে জানান জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মেহেদি রেজা। নীতিমালা চাইলে তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমি আপনাকে কেন দেব? আপনাকে আমি নীতিমালা দিতে বাধ্য না। আপনার যদি ইচ্ছে হয় ‘অথরিটির’ কাছ থেকে নীতিমালা নেন।’ তবে ‘অথরিটি’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন তা বলতে পারেননি তিনি।

জোবাইকের বিষয়ে ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক শামস-ই নোমান বলেন, ডাকসু থেকে আমরা জোবাইক নামাতে পারিনি। একটা কোম্পানির মাধ্যমে আমরা কাজটি সম্পন্ন করছি। জোবাইক নিয়ে যে সমস্যা তা কোম্পানির নিজস্ব সমস্যার কারণে তৈরি হচ্ছে। আশা করি আমরা খুব দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোবাইক চালু করলেও তা দিয়ে দায় কাটিয়েছেন ডাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক শামস-ঈ নোমান। জোবাইক ছাড়া তার দেওয়া অন্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেই।

অপর্যাপ্ত সাইকেল ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও ত্রুটির কারণেই প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১৭০টি সাইকেল পর্যাপ্ত নয়। ডাকসুর উচিত ছিল সাইকেল পর্যাপ্ত পরিমাণ আনা। এ জোবাইকের ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পান না তারা।

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাশেদ বলেন, দুইদিনে অন্তত ১০টা বাইক আনলক করার চেষ্টা করে unavailable দেখতে হয়েছে। চার্জ এবং অ্যাপের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা উচিত। কাজের সময় বাইক পাওয়া না গেলে ক্যাম্পাস থেকেই ‘আনএভেইলেভল’ করা উচিত। জোবাইক সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্তমানে জোবাইকের সংখ্যা ১৩০টি। এসব জোবাইকে চার্জ দেওয়ার চার্জার রয়েছে মাত্র একটি। এতে চার্জ দিতে না পারায় চার্জবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে অর্ধেকেরও বেশি জোবাইক।

সূত্রটি বলছে, প্রথমদিকে চার্জারের সংখ্যা দুটি থাকলেও পরবর্তীতে মিরপুর ডিওএইচএস এর চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে সেখানে একটি চার্জার স্থানান্তর করা হয়। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার্জারের সংকট দেখা দেয়। তবে কোম্পানির দায় স্বীকার করতে চান না জোবাইক প্রতিষ্ঠাতা মেহেদি রেজা। পর্যাপ্ত চার্জারের অভাবের কথা স্বীকার না করে তিনি বলেন, এর দায় শিক্ষার্থীদের। তারা চার্জ হওয়ার আগে জোর করে সাইকেল বের করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জোবাইক বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাঈনুল করিম বলেন, আমরা একটা খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা হয়নি। একটা আনুষ্ঠানিক মিটিং ডেকে আমরা এ বিষয়টি সম্পন্ন করে নেব।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর