শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:২৪ পিএম


ঝুলে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

প্রায় এক মাস ধরে ঝুলে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত। সরকারের শীর্ষ মহলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় এখন সংশ্নিষ্ট দপ্তর। গত ১ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য সিনেটে নির্বাচিত তিনজন অধ্যাপকের নামের প্যানেল চ্যান্সেলর বরাবর পাঠানো হয়। আইন অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় চ্যান্সেলরের সাচিবিক দপ্তর।

যে তিনজনের নাম উপাচার্য হিসেবে সরকারের বিবেচনাধীন, তারা হলেন- বর্তমানে অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে তারা উপাচার্য নিয়োগের প্যানেলে নির্বাচিত হন।

১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে, সিনেট কর্তৃক নির্বাচিত এই উপাচার্য নিয়োগের প্যানেল থেকে যে কোনো একজনকে রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

২৮ দিন ধরে উপাচার্য নিয়োগের নথি সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পড়ে থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে। চাউর হচ্ছে নানা উড়ো খবর। তবে সরকার সমর্থক নীল দলের শিক্ষকদের মধ্যে জোরেশোরে এ ইস্যুতে বিভিন্ন ধরনের আলাপ-আলোচনা চলছে।

নতুন উপাচার্য হিসেবে অনেকে আকারে- ইঙ্গিতে বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের কথাই বলতে চান। নীল দলের এক পক্ষের শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সরকারের কাছে পরীক্ষিত ব্যক্তি। বিরোধী পক্ষের শিক্ষকরা মনে করেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানই নির্বাচিত উপাচার্য হিসেবে আবারও দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে এরই মধ্যে দুই বছর পার করে ফেলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিনেটে নির্বাচিত তিনজনই বর্তমানে নানাভাবে সরকারের শীর্ষ মহলের আনুকূল্য পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে প্রকাশ্যে তারা এ ব্যাপারটি স্বীকার করতে চান না। তাদের নিজ নিজ অনুসারীরাও চাইছেন, তাদের পছন্দের মানুষটিই উপাচার্য পদে নিয়োগ পান।

সিনেটে নির্বাচনের আগে গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় সিনেট ভবনে নীল দলের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তাদের দলীয় প্যানেল নির্ধারণ করা হয়। সভায় নীল দল থেকে উপাচার্য হওয়ার জন্য মোট সাত প্রার্থী হলেও দলীয় ভোটের মাধ্যমে তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্ত করা হয়। তাদের মধ্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ৪২ ভোট, অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ৩৬ ভোট ও অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল ৩০ ভোট পেয়ে প্যানেলে মনোনীত হন। পরদিন ৩১ জুলাই সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে অন্য কোনো প্যানেল না থাকায় এবং মনোনীত প্যানেল নিয়ে নীল দলের কারও আপত্তি না থাকায় সে প্যানেলটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। সাদা দল এই নির্বাচন বর্জন করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ জুলাই সিনেট নির্বাচনের দিনই উপাচার্য প্যানেল তৈরি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনাম উজ্জামান তা চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে) পাঠিয়ে দেন। নিয়ম অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথিটি এরপর বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর নথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত এলে মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির নিয়োগ করা ব্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করবে। সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে, উপাচার্য নিয়োগের নথিটি সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছে।

উপাচার্য নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে কেন জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ অংশটুকু আমাদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের) পার্ট নয়। এটা সরকারের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে নীল দলের শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।

`ভোটের সংখ্যার বিচারে প্যানেল সাজানো হয়নি বলে উপাচার্য নিয়োগে সরকার বিলম্ব করছে`- নীল দলের ভেতর এমন খবর ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে উপাচার্য প্যানেলে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল সমকালকে বলেন, `এগুলো যারা বলছেন, তারা এক ধরনের দুরভিসন্ধি থেকে বলছেন। ভোটের যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, সেটা তো সিনেটের ফ্লোরের ভোট নয়। এটা দলের ভোট। দলের ভোটে এটা হতেই পারে। সিনেটের ফরমাল সেশনে তিনজনের উপাচার্য প্যানেল এক বাক্যে পাস হয়েছে। সেখানে কেউ তো অন্য কোনো নাম বা কোনো প্যানেলের কথা বলেননি। তবে এটা ঠিক, সব কিছু আগে আলাপ-আলোচনা করে নিলে সুন্দর হতো।`

প্রায় এক মাস ধরে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি ঝুলে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, `আমরা উপাচার্য নিয়োগের জন্য প্যানেল পাঠিয়ে দিয়েছি সরকারের কাছে। যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী দেশে ছিলেন না, হয়তো তার সঙ্গে আলোচনার জন্য অপেক্ষা করার কোনো ব্যাপার থেকে থাকতে পারে। মন্ত্রী দেশে ফিরেছিলেন, তাই হয়তো এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।`

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর