শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৭ পিএম


জুনের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিকে ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ

আতাউর রহমান

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ২৯ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ০৮:১৯, ৮ এপ্রিল ২০১৮

আগামী জুনের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ হাজার সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দিতে চায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। ইতিমধ্যেই এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে ডিপিই। শিক্ষক সংকট নিরসনে গত সপ্তাহে ডিপিই’র নিয়োগ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিপিই সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এপ্রিলেই প্রবেশপত্র ছাড়া হবে। আর এর পরপরই নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আরো ৮ হাজার সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে সহকারি শিক্ষকের পদ আর শূণ্য থাকবে না। এছাড়া জাতীয়কৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ হাজার প্রাক প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে। এসব পদ সৃষ্টি হলে সেখানেও নিয়োগ দেওয়া হবে।   

 

সূত্র জানায়, পুল ও প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের মামলা জটিলতায় গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত ছিল। এ ক্যাটাগরির শিক্ষকদের নিয়োগ জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে আদালত থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও সে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে।

জানা গেছে, বর্তমানে পুল-প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় নতুনভাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি ডিপিইতে সভা হয়েছে। সে সভায় ২০১৪ সালের নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আদালতের সম্মতিও চাওয়া হয়েছে। যেহেতু পুল ও প্যানেল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হওয়ায় নিয়োগে কোনো বাধা থাকবে না বলে জানা গেছে। 

২০১৪ সালের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে ডিপিইর নিয়োগ কমিটিকে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এপ্রিল মাস থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ কাজ শুরু করা হবে বলে ডিপিই’র নিয়োগ শাখা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এ নিয়োগ কার্যক্রম শেষে সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য আসনে নতুন করে নিয়োগ দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। সাত থেকে আট হাজার পদের জন্য নতুন নিয়োগ হতে পারে।

২০১৪ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে আবেদন শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে আবেদন প্রক্রিয়া, সেখানে ১০ হাজার আসনে প্রায় ১২ লাখ আবেদন জমা পড়ে। পরে মামলা জটিলতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। এরপর পুল ও প্যানেলের সকল শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

জানা গেছে, সারাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি শূন্য রয়েছে। 

জানতে চাইলে ডিপিই’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী বলেন, ২০১০ সালের স্থগিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এ কার্যক্রম শেষ করা হবে। শিক্ষক সংকট দূরীকরণে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা পুল-প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেছি। বয়স উত্তীর্ণ হওয়ায় সাতজন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমরা লিখিভাবে আদালতকে জানিয়েছি। ফলে এখন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো জটিলতা নেই। এই নিয়োগ কার্যক্রম শেষে শূন্য আসনগুলোতে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর