মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৯ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

জাল সনদ: শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৩, ৭ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ০৮:৪০, ৮ আগস্ট ২০১৮

১৯৯৮ সালের ১৯ জুন প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অবস্থিত বড় ধুসিয়া আদর্শ কলেজে সাচিবিক বিদ্যার প্রশিক্ষক পদে আবেদন করেন গোলাম মোস্তফা। একই বছরের ১৬ আগস্ট এ পদে নিয়োগের জন্য তার নাম চূড়ান্ত করে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত নিয়োগ কমিটি। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, গোলাম মোস্তফা প্রশিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে নট্রামস থেকে ইস্যুকৃত যে সনদ জমা দিয়েছেন তা জাল। এ জাল সনদেই ১৭ বছর ধরে চাকরি করে আসছেন তিনি। সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে চাকরি নেয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কুমিল্লার দিদার মডেল হাই স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা পদে নিয়োগের আবেদন করেন কামাল হোসেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক তিনি কম্পিউটার সায়েন্সের ওপর ডিপ্লোমার একটি সনদ জমা দেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষায় সনদটি জাল প্রমাণিত হয়। চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা বাবদ ১৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক পদে যোগদানের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও অডিট বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গোলাম মোস্তফা ও কামাল হোসেনের মতো ৭০০-এর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ দিয়ে চাকরির অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে দুদকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। সম্প্রতি কমিশন এ রকম সাতটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে। আরো শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষকতার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। পর্যায়ক্রমে কমিশনের অনুমোদনসাপেক্ষে সেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভুয়া সনদে শিক্ষকতার বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) একটি নিরীক্ষা পরিচালনা করে। ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের সনদ যাচাই করে ৩৭৬ ভুয়া সনদধারীর তালিকা তারা জমা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরে। এ শিক্ষকরা ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বেতন-ভাতা বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বড় অংকের অর্থ উত্তোলন করেছেন। এছাড়া সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়েও ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ৫৫৬ শিক্ষকের সনদ জালের প্রমাণ পায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। এ তালিকায় ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন রয়েছে ৩৬৭ জনের, কম্পিউটার সনদ ভুয়া ১৪৭ জনের এবং বিএডের ভুয়া সনদধারী রয়েছেন ৪২ জন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তারা ভুয়া সনদধারীদের সনদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বক্তব্যও নেয়া হয়। পরে দুদকের অনুসন্ধানে বিভিন্ন শিক্ষকের সনদের বিষয়টি জাল প্রমাণিত হয়।

জানতে চাইলে ডিআইএ যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার বলেন, ভুয়া সনদ বিষয়ে ডিআইএর তদন্ত কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিয়মিতভাবেই এ ধরনের তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যেসব ভুয়া সনদ চিহ্নিত হয়েছে, তাদের থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেয়া অর্থ আদায়ের জন্য বলা হয়েছে।

সূত্র: বণিক বার্তা

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর