রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ৫:০২ এএম


জালিয়াতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪২ শিক্ষার্থী!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩১, ২ জুন ২০১৯  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৪২ শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বেশির ভাগই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে এবং ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী করেছে জালিয়াতির কারবার। জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঈদের পরই এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করবে সিআইডি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিআইডি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ধরা পড়ার পর স্বীকারোক্তিসহ প্রমাণ পাওয়ায় গত বছর ১৫ জনকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নাম, পরিচয় ও ভূমিকা শনাক্ত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীর নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করছে সিআইডি। জালিয়াতিতে জড়িত বলে প্রমাণিত অন্য ৭২ জনকে শিগগিরই বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরো ৫৫ জনের নাম পাওয়া গেছে, যারা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে। তবে তাদের এখনো শনাক্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আগে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে ১৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবারও তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে বাকিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিআইডির বিশেষ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের তথ্য বিনিময় হচ্ছে। আমরা তদন্ত সম্পর্কে জানিয়েছি। এখনো যাদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততার পুরো প্রমাণ মেলেনি তাদের ব্যাপারেও কাজ চলছে। প্রমাণ পেলে সম্পূরক চার্জশিট দেব।’

২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রানা এবং অন্য শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে কানে আরেকটি ডিভাইস রাখা পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভর্তীচ্ছু পরীক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফিকে। ওই দিনই মামলা করা হয় শাহবাগ থানায়। রাফির দেওয়া তথ্য মতে, প্রশ্ন পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, পরীক্ষার আগে ছাপাখানা থেকেও ফাঁস হয়ে যেত প্রশ্নপত্র। দেড় বছরের ধারাবাহিক তদন্ত ও পাঁচ দফা অভিযানে সিআইডি ২১ শিক্ষার্থীসহ ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। ছয়টি চক্রের ২৪ কারবারিসহ ১২৫ জনকে শনাক্ত করে চার্জশিট তৈরি করেছে সিআইডি, যার মধ্যে ৮৭ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর