রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৫৮ পিএম


জাবি বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান, বিক্ষোভ

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১৯, ৫ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২৩:৪৫, ৫ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, এমন ঘোষণার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে তারা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল বের কর হয়। মিছিলটি পরিবহন চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপাচার্যের অপসারণ দাবি ও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা রুটের বাস আটকে রাখেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলনে থাকবেন।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, `হল ও ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাস বাইরে যেতে পারবে না। এই উপাচার্যকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে ওই সভায় ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এই ঘোষণা প্রত্যাখান করেই বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে তার ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আন্দলোনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে আন্দোলনকারীদের ঘিরে চার স্তর বিশিষ্ট বহর তৈরি করে মুখোমুখি অবস্থান নেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি।

তবে কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করা হয়। মিছিলকারীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। তারপর তারা ওই জায়গায় অবস্থান নেন।

পরে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা করে নাই। তারা আমার বাসভবনের সামনে থেকে আন্দোলনকারীদের সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে দিয়েছে।

ভিসি বলেন, আন্দোলনকারীদের পেছনে জামায়াত-শিবির রয়েছে। তারা গত কয়েকদিন ধরে আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমি বের হতে পারিনি। আমি এখন অফিস করবো।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর