বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ৫:৫২ এএম


জাবি উপাচার্যের দুর্নীতির ‌'খতিয়ান' প্রকাশ

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২২, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:০৭, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করেছেন ‌দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর শিরোনামে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। ২২৪ পেজের এই পুস্তিকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন ও সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে৷

এই পুস্তিকাটির মধ্যে, আন্দোলনের ইতিবৃত্ত, কেন এই আন্দোলন, অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের সংকট, উপাচার্যের দুর্নীতির পূর্বাপর, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থানের উপর হামলার বৃত্তান্ত, আন্দোলনের ক্রমপঞ্জি, দুর্নীতিবিরোধী ইশতেহার এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

পুস্তিকাটির ভূমিকা অংশে বলা হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মধ্যে কেউ কেউ কেন একেকজন প্রতাপশালী স্বৈরাচারীতে পরিণত হন এবং দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। তার কারণ ও শর্তগুলো অনুসন্ধান করা জরুরি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়নের লক্ষে যখন একটি মেগাপ্রকল্প পাশ হয়, আমরা লক্ষ করি, এর গোড়া থেকেই শুরু হয় অনিয়ম ও লুকোছাপা। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের লক্ষে যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণীত হয়, তাতে মাস্টারপ্ল্যানের আবশ্যকীয় শর্তগুলো মানা হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক কারণেই মহাপরিকল্পনার পুনর্বিন্যাস ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার দাবি তোলেন।

পুস্তিকাটিতে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, কমিশন কেলেঙ্কারী ও ঈদ সেলামির নামে কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়। আর্থিক সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ গণমাধ্যমের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন। যার ফলে উপাচার্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধে। উপাচার্য ও তার অনুগত শিক্ষকেরা আন্দোলন দমাতে নানা অন্যায্য কায়দা গ্রহণ করে থাকেন।

হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা, ভয় ভীতি প্রদর্শন, অপপ্রচার, ব্যক্তি আক্রমণ ইত্যাদি কৌশল প্র‍য়োগ করতে থাকে। অবশেষে আন্দোলকারীদের অবস্থানের উপর হামলা করা হয়। এই হামলার দিনটিকে উপাচার্য আনন্দের দিন হিসেবে চিহ্নিত করে একে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেন এবং হামলাকারীদের ধন্যবাদ জানান। এতো অপচেষ্টার পরেও দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনটি চলমান আছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান এই আন্দোলন দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের অপসারণের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যবস্থার পরিবর্তনের পথ সুগম হবে।"

আন্দোলনের ইশতেহার সমূহ:

(১) বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সমস্ত প্রশাসনিক, একাডেমিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অর্থনৈতিক হিসাব জনপরিসরে প্রকাশ করতে হবে।
(২) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্লান প্রণয়ন, সংশোধন এবং যে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়নে সকল অংশীজনের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। যে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়নে সর্বদলীয় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অংগ্রহনের ভিত্তিতে তদারকি কমিটি সৃষ্টি করতে হবে।
(৩) বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন অচল অবস্থা সৃষ্টি না হলে উপাচার্য তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না।
(৪) উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ভিন্ন কোনো প্রক্রিয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন উপাচার্য নিয়োগ করা হবে না।
(৫) ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিয়ে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করতে হবে।
(৬) পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে।
(৭) সমস্ত বানিজ্যিক কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনার বানিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক সত্তা সমুন্নত রাখতে হবে।


এডুকেশন বাংলা / আশা/এমআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর