রবিবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৩:৩৩ এএম


জাবির হল খুলে দেয়াসহ ৭ দফা প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:২২, ২০ নভেম্বর ২০১৯  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আবাসিক হল খুলে দেয়া ও ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করাসহ ৭ দফা প্রস্তাব জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লিখিত আবেদনপত্রে এসব প্রস্তাব দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিভিন্ন বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর এবং উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

৭ দফা প্রস্তাব দেয়া শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তারা চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ-বিপক্ষ কোনো অবস্থানে নেই।

উপাচার্যের কাছে দেয়া আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এবং তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী সেশনজট। একই সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা ও ফলাফল স্থগিত থাকায় শিক্ষার্থীরা চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা, আবাসিক হল ও লাইব্রেরি খুলে দেয়াসহ ৭ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন তারা।

তাদের অন্য প্রস্তাবগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শীতকালীন ছুটি কমানো, শিক্ষার্থীদের চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে অনিশ্চয়তা দূর করতে আটকে থাকা ফলাফল দ্রুততম সময়ে প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অজ্ঞাতনামা মামলা তুলে নেয়া, শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা, আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা।

এছাড়া উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরতদের কাছে দুর্নীতির তদন্তের শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখাসহ তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে উভয় পক্ষকে কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে বন্ধের মধ্যেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।

গত ১৩ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২১ নভেম্বরের মধ্যে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে কর্মসূচি বিরত রাখেন আন্দোলনকারীরা। অন্যথায় ২২ নভেম্বর থেকে আরও জোরালো আন্দোলন শুরু করা হবে বলে জানান তারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর