বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ৬:২৯ এএম


জাবিতে ফের উপাচার্য বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০৯, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৮, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯

প্রায় এক মাস বন্ধের পর ফের চালু হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হল। আর ক্যাম্পাস খোলার পরেই উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাংশ।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
এরপর বিভিন্ন সড়ক ও প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে বটতলা এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে গত ৫ নভেম্বরে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা ও এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়োল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, গত ৫ নভেম্বর উপাচার্যের মদতে ছাত্রলীগ আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে নির্মম হামলা চালিয়েছিল। এই উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে `জিরো টলারেন্স` নীতি আমরা তা জাবির ক্ষেত্রেও দেখতে চাই। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমামুক্ত করতে চাই।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিক উস সালেহীন বলেন, বর্তমান প্রশাসন হল খুলে দিয়েছে যা, শিক্ষার্থীদের একটি বিজয়। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে উপাচার্য আমাদের ওপর ঠিক একমাস আগে হামলা চালিয়েছিল। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উস্কানি দিলে জাহাঙ্গীরনগর আবার অস্থির হবে।

ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ জামান।

সমাবেশ শেষে আগামী ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের সমন্বয়ক অধ্যাপক রাইহান রাইন।

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত চারমাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের একাংশ । পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং উপাচার্যের বাসভবন অবরুদ্ধ করে রাখে।

এসময় আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলারও অভিযোগ পাওয়া যায়। এ পরিস্থিতিকে শান্ত করতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্যে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রায় এক মাস পর জরুরী সিন্ডিকেট মিটিং এর মাধ্যমে ক্যাম্পাস সচল করা হলে আবারও উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এডুকেশন বাংলা/ এআইএস/ কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর