রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ৮:৫২ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

জাকসু নির্বাচনের বড় বাধা সহাবস্থান না থাকা?

শুভ আনোয়ার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ১৬ মার্চ ২০১৯  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি ওঠে। গত সোমবার ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও এরই মধ্যে জোরালো হয়েছে।

জাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক সমিতি, সক্রিয় সব ছাত্রসংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থী—সবাই আগ্রহী।

কিন্তু ঠিক কী কারণে জাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না—জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাকসু নির্বাচন হবে। নির্বাচন হোক আমরা সবাই চাই। তবে তার আগে সকল ছাত্রসংগঠন সহ-অবস্থান করতে পারে—এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেটা করা গেলে আমরা নির্বাচনের পদক্ষেপ নেব।’

উপ-উপাচার্য জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বসে সহ-অবস্থানের বিষয়ে কথা বলবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর সিন্ডিকেট বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।

তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুখে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের অনীহা এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের অনিচ্ছার কারণেই হচ্ছে না জাকসু নির্বাচন।

অন্যদিকে জাকসু নির্বাচন দাবি করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কর্মসূচি পালন করছে।

জাকসুর সাবেক নেতারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুখে মুখে বললেও তারা মন থেকে জাকসু নির্বাচন চায় না।

এ নির্বাচন নিয়ে বিশৃঙ্খল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্ভাবনাকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন অনেক ছাত্রনেতা। তাঁদের পরামর্শ হলো, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ারও প্রস্তাব দেন তাঁরা।

জাকসুর সাবেক সভাপতি (ভিপি) ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘জাকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছার ব্যাপার। গত ২৭ বছর জাকসু নির্বাচন হয়নি। ফলে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যে নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে জাকসু নির্বাচন সম্ভব। আমরা সব সময় জাকসু নির্বাচন চেয়েছি। এখনো চাই।’

ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহ-অবস্থান না থাকার কারণে জাকসু নির্বাচন দিচ্ছে না বর্তমান প্রশাসন। সহ-অবস্থান না থাকার কারণে প্রশাসন চাপের মুখে নেই। ছাত্রলীগ হেরে যাবে, এ কারণে তারাও নির্বাচনের জন্য প্রকাশ্য অবস্থানে নেই।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘মূলত হলে ও ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের একাধিপত্য হারানোর ভয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের যথেষ্ট আস্থার অভাবের কারণে তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে দেয় না। ছাত্রসংসদ নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাদের একক প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব হবে, তাই তারা নির্বাচন দিতে চায় না।’

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ধরনের আন্তরিকতা না থাকা এবং সদিচ্ছার অভাব জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রতীয়মান।’

উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন হয় ১৯৯২ সালে। সেবার ভিপি নির্বাচিত হন মাসুম হাসান তালুকদার ও জিএস হন শামসুল তাবরীজ। ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই এক ছাত্রের বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে তৎকালীন প্রশাসন জাকসু ও হল সংসদ বাতিল করে দেয়। ২০১৩ সালে নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হলেও মাঝপথে থেমে যায়।


এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর