মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ৬:৫৫ এএম


জাকসু, চাকসু, রাকসু কবে হবে ?

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৯:২০, ২৪ মার্চ ২০১৯  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর এবার দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, হল সংসদ ও বড় সরকারি কলেজগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে জোরেশোরে। ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিতে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষার্থীদের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনার উন্মেষ, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো, নেতৃত্বের বিকাশ ও শিক্ষার অধিকার আদায়ের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদের ভূমিকা অপরিসীম। ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হয়ে পড়ার পর দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনও অনিয়মিত হয়ে পড়ে একে একে। ফলে ছাত্র সংসদগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়ে।

 

বিশিষ্টজন বলছেন, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ছাত্র সংসদগুলো `আঁতুড়ঘর` হিসেবে কাজ করে। ছাত্র সংসদ অকার্যকর থাকায় ছাত্র রাজনীতিও পথ হারিয়েছে। ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেয়ে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছে ছাত্ররা। ছাত্র সংসদ না থাকায় সুস্থ ক্রীড়া ও সংস্কৃতিচর্চার পথ রুদ্ধ হয়েছে তরুণ-যুবকদের। ফলে তাদের একাংশ জড়িয়ে  পড়েছে মাদকাসক্তিতে। ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের পর দেশের  অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচনের দাবিও জোরালো হয়েছে।

 

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ সমকালকে বলেন, "রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে থাকতে হলে  ডাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে। ঢাবির বর্তমান প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মূলত জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির `স্টেজ রিহার্সাল` হয়ে থাকে। পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক নানা কর্মকাণ্ডও রয়েছে। সব ছাত্র সংসদের নির্বাচন নিয়মিত হওয়া উচিত।" তিনি আরও বলেন, `জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তিনি তার অধিভুক্ত সব কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন।`

 

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ের প্রায় দুই হাজার কলেজ অধিভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০০টি সরকারি কলেজ। নতুন সরকারি কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নেই। পুরনো ও বড় সরকারি কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ থাকলেও তা বর্তমানে অকার্যকর। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিতে খুব একটা উৎসাহী নয়। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীরাও এ বিষয়ে উদাসীন। তারাও খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না।

 

দেশের পুরনো ও বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় চলে পাবলিক ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট-১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী। এগুলো হলো- ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই ছাত্র সংসদের নির্বাচিত নেতৃত্বের নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বডি সিনেট ও সিন্ডিকেটে রাখার বিধান রয়েছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনের মূল চেতনা এটাই, ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন।

 

জাকসু: রাজধানীর অদূরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। সেবার ভিপি নির্বাচিত হন মাসুম হাসান তালুকদার ও জিএস শামসুল তাবরীজ। ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই এক ছাত্রের বহিস্কারকে কেন্দ্র করে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে তৎকালীন প্রশাসন জাকসু ও হল সংসদ বাতিল করে দেয়। এরপর কেটে গেছে ২৬ বছর। ২০১৩ সালে একবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঝপথে থেমে যায় তা। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাকসু নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও ডাকসু নির্বাচনের পর সেই আগ্রহ অনেকটাই মিইয়ে গেছে। মুখে দাবি করলেও জোর দাবি জানাচ্ছেন না জাকসুর দাবিতে নিয়মিত আন্দোলন করা বামপন্থিরা। তারা ডাকসুর মতো নির্বাচন চান না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী স্বাধীন ইসলাম বলেন, `এত ঐতিহ্যবাহী ডাকসু নির্বাচন যদি এমন হয়, তাহলে জাকসুতে এর ব্যতিক্রম হবে, এটা আশা করা দুরাশা। এর চেয়ে জাকসু না হওয়াই ভালো।`

 

তবে, ডাকসু নির্বাচনের পরও সব ছাত্রনেতাই চান জাকসু হোক। কোটা সংস্কার আন্দোলনে জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিলুজ্জামান বলেন, `আগ্রহ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে একটি মেসেজ দিতে। নির্বাচন এ দেশের মানুষের অধিকার। জাকসুসহ সর্বস্তরে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি যে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, সেই পর্যায় থেকে অনেকটা উন্নতি করা, যা কেবল আমরা তরুণরাই প্রতিষ্ঠা করতে পারি।`

 

গত ৪ মার্চ জাকসু নিয়ে বিতর্ক শীর্ষক অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেছেন, `শিক্ষার্থীরা জোর দাবি না করায় জাকসু হয়নি।`

 

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, `জাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার, এটা আদায় করার বিষয় নয়। এটা এমনিতেই দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। এই দাবি আদায় করার জন্য শাখা ছাত্রলীগ মাঠে নামবে।`

 

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংগঠক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, `আমরা ডাকসুর মতো ভোট ডাকাতির জাকসু চাই না। আমরা চাই ভয়হীন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা তাদের নেতা নির্বাচন করুক। আমরা অবিলম্বে জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি করছি।` ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত বলেন, `সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে যদি ডাকসুর মতো সিলেকশন না করে ইলেকশন করার মানসিকতা রেখে কাজ করে, তাহলে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।` ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, `ডাকসু নির্বাচনের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আমরা এটা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেব এবং দ্রুততম সময়ে জাকসুর দাবি আদায়ে কর্মসূচি দেব।` সর্বশেষ জাকসু ভিপি মাসুম হাসান তালুকদার বলেন, `বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবেই জাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। প্রশাসনের আশ্বাস লোকদেখানো। স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ও জাকসু সচল ছিল।`

 

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল আলম সমকালকে বলেন, `উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম অসুস্থ। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বসে সহাবস্থানের বিষয়ে কথা বলবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর সিন্ডিকেট বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।`

 

চাকসু: ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে মাত্র ছয়বার। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে চাকসু নির্বাচন হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর চাকসু অচল থাকায় সিনেটে নেই নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার নেই কেউ।

 

তবে আশার কথা, চাকসু নির্বাচন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, `চাকসু নির্বাচন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনাও করা হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নীতিমালা সংগ্রহ করে নতুনভাবে চাকসুর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি চাকসু নীতিমালা প্রণয়ন করবে। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে চাকসু অচল ছিল, তাই এর নীতিমালা হালনাগাদ করতে হবে। কমিটি নীতিমালা প্রণয়ন করলে আমরা সেটি বিভিন্ন পর্ষদে আলোচনা করে চাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পরই চাকসু নির্বাচন দেওয়া হবে।`

 

আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল হক বলেন, `প্রভোস্ট কমিটির সভায় চাকসু নির্বাচন আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে আমরা হলের আবাসিক-অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীদের তালিকা হালনাগাদ শুরু করেছি। এর তালিকার ভিত্তিতেই ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে।`

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো।

 

চবি ক্যাম্পাসে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে চাকসু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, `২৮ বছর পর ঢাবি শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি পেল। চবির ২৫ হাজার শিক্ষার্থীও অধীর আগ্রহে নিজেদের অধিকার ফেরত পাওয়ার অপেক্ষা করছে।` চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, `সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম চাকসু। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দসই প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।` ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সভাপতি ধীষন প্রদীপ চাকমা বলেন, `দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশার সঞ্চার হয়েছে।`

 

গত ১৪ মার্চ চবির রসায়ন বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে চাকসু নির্বাচন দিতে উপাচার্যকে অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, নেতৃত্ব বিকাশের জন্য ছাত্র সংসদের বিকল্প নেই। নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি খুব দ্রুত চবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

 

রাকসু: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সৎ, মেধাবী এবং দেশপ্রেমিক ছাত্র নেতৃত্ব তৈরির উদ্দেশ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জন্ম ১৯৬২ সালে। ১৯৯০ সালের পর থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ। প্রতিষ্ঠার পরে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ বার রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও রুহুল কুদ্দুস বাবু এক বছরের জন্য যথাক্রমে ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

বর্তমানে রাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কাজের `ধীরগতি`তে হতাশা প্রকাশ করেছে ছাত্র সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক। প্রশাসনের দাবি- ছাত্র সংগঠনের চাওয়া মতোই নির্বাচন দেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, `প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা আছে, তারা দ্রুত নির্বাচন দেবেন এটাই প্রত্যাশা। আমরা এটাও চাই, তারা যেন নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ না করেন।`

 

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, `প্রশাসন যেন দ্রুত নির্বাচন দেয়। তারা আমাদের শিক্ষক। সে জন্য ছাত্র হিসেবে তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।`

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, `আমরা প্রশাসনের কাজে সম্পূর্ণ হতাশ। তারা নানাভাবে কালক্ষেপণ শুরু করেছে। আমরা বারবার বলে আসছি নির্বাচনের দিন ও তফসিল দেওয়ার জন্য।` প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ফিদেল মনির বলেন, `ডাকসুর আগে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম রাকসুও পাব। যত দিন যাচ্ছে ততই আশা হারিয়ে ফেলছি।`

 

রাকসু নির্বাচন দিতে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে সভাপতি করে চার সদস্যবিশিষ্ট `রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি` গঠন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে কমিটি।

 

কমিটির সভাপতি ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, `প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে আন্তরিক। সব দলের দাবি মেনেই নির্বাচন দেওয়া হবে। নির্বাচন দিতে প্রশাসনের কোনো সমস্যা নেই।`

 

অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: রাজধানীতে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান রাখা হয়নি। একইভাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ নেই। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনোটিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কমিটি রয়েছে। তবে ক্যাম্পাসে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের প্রবিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণে স্থবির হয়ে আছে তা। এ ব্যাপারে শাকসুর সভাপতি ও শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, `এ মুহূর্তে শাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। সময় হলেই সবকিছু জানা যাবে।`

 

বিভিন্ন কলেজের ছাত্র সংসদ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ বলেছেন, তিনি অধিভুক্ত কলেজগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন। এতে কলেজগুলোর ছাত্র সংসদ চালু হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি কলেজ রাজধানীর তিতুমীর কলেজে ছাত্র সংসদ নেই দুই দশক। ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে। তারপর দুই যুগ ধরে আর নির্বাচন হয়নি। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট। তারপর কেটে গেছে ১৪ বছর। ২১ বছর ধরে বন্ধ কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ?দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে খুলনার বিএল কলেজ ছাত্র সংসদ।

 

বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্র সংসদের (বাকসু) সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের ১৩ আগস্ট। গতকাল বাকসু নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান সিকদার সমকালকে বলেন, `জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলেই বাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।` তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিনেট সভায় এবং দেশের শতবর্ষী কলেজগুলোর অধ্যক্ষের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও বাকসু নির্বাচনের বিষয়ে কথা হয়েছে।

সূত্র : সমকাল

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর