সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৩৩ পিএম


জরুরী হয়ে পড়েছে নৈতিকতা শিক্ষা

মো. আবুল হোসেন

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ১০ অক্টোবর ২০১৯  

রাষ্ট্র কিংবা সমাজ থেকে নৈতিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে নৈতিকতা শিক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ বর্তমান সময়ে যা দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্র কিংবা সমাজের মধ্যে কেউ কাউকে সম্মান করে না। কারোর প্রতি কারোর সহানুভূতি কিংবা ভালো বাসা নেই। সামান্য কারণে একজন অন্য জনকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। বর্তমান সময়ে আলোচিত একটি ঘটনা তুলে ধরা হলো - বুয়েটের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে কিছু বিপদগামী শিক্ষার্থী পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় সুশিক্ষিত হয়ে সন্তান ঘরে ফিরবে।কিন্তু বাবা মার আশায় ঘুরে বালি দেখা যাচ্ছে সন্তান ফিরে লাশ হয়ে। নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আজ আমরা শংকিত সন্তানদের নিয়ে। আমরা আমাদের সন্তানদের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে পাবতো। বর্তমান সময়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অবিভাবক গণ।

সন্তানদের নিয়ে পিতা মাতার দুঃচিন্তার শেষ নেই। নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আজ শিক্ষা ব্যবস্থার বদনাম হচ্ছে। যা কোনো মতেই কাম্য হতে পারে না। বর্তমান সময়ে যা দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীর মধ্যে সুশিক্ষিত হবার কোন লক্ষনই নেই। শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা চর্চা না করে রাজনৈতিক শিক্ষার দিকে ঝুকে পড়ছে। নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা করে। শুরু হয় গ্রুপিং যার কারণে দেখা যাচ্ছে মারামারির মত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে যা কখনো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কাম্য হতে পারে না। আজ মনে হচ্ছে আমরা শিক্ষকরা সত্যিই প্রকৃত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। বর্তমান পরিস্থিতির দায় শিক্ষক সমাজ কোন মতেই এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই । কিছুটা হলেও শিক্ষক সমাজ দায়ী। কেননা আমরা যদি নৈতিকতা শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারতাম তাহলে হয়তোবা এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা জন্য সেমিনার করা প্রয়োজন। ভালো এবং মন্দ কাজ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যাতে বিপদগামী পথে ধাবিত হতে না পারে সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত ।

অবিভাবকদের নিকট প্রতিটি শিক্ষার্থীর আচার আচরণ সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নৈতিক শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র। শিক্ষকরাই নৈতিক শিক্ষার কারিগর। শিক্ষকরা যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে রাষ্ট্র কিংবা সমাজ থেকে নৈতিক অবক্ষয়ের হার কমে আসবে। এখানে সরকারি সহযোগিতা একান্ত কাম্য। প্রতিটি থানা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সরকার যদি নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে একদিন হয়তোবা এই দিন আমাদের আর দেখতে হবে না। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো নিয়ে অবিভাবকদের সন্তান হারানোর ভয় কমে আসবে।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী নির্যাতনের হার কমাতে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলে নৈতিক অবক্ষয়ের হার কমে আসবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় হানাহানি চিরতরে বন্ধ হবে। অনেক আশা নিয়ে প্রতিটি বাবা মা তার সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠায় সুশিক্ষিত হয়ে সন্তান ঘরে ফিরবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাস্তবতা ভিন্ন দেখা যাচ্ছে কেউ লাশ হয়ে ঘরে ফিরে আবার কেউ রাষ্ট্র কিংবা সমাজের জন্য বিপদগামী হয়ে ঘরে ফিরে। এই অবস্থা চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থা একদিন হুমকির মুখে পড়বে।

বর্তমান সময়ে তাই দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষা ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিবেশ। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। বুকফাটা কান্নার সুর যেন শুনতে না হয়। সন্তানের জন্য মাকে যেন হাহাকার করতে না হয়। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ। আর যেন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এর পুনঃআবৃতি না হয় আমরা তার অবসান চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আপনি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে জাতিকে একটি দুঃচিন্তামুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিবেন।

সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব
বাশিস ( কেন্দ্রীয় কমিটি)

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর