সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:০৪ পিএম


ছাত্রসংগঠনকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করুন: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:২১, ১০ অক্টোবর ২০১৯  

বুয়েটের ছাত্র আবরারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে একদিকে বাক্স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুরতম আঘাত ও অন্যদিকে ছাত্রসংগঠন তথা শিক্ষাঙ্গণের ওপর দুর্বৃত্তায়িত অসুস্থ রাজনৈতিক প্রভাবের নিষ্ঠুর পরিণতি উল্লেখ করে অবিলম্বে বুয়েটসহ দেশের সকল ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গণকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলছে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী ছাত্র সহিংসতা, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবদুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা এবং একই কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যত নিষ্ক্রিয়তার ফলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আদর্শিক ছাত্র আন্দোলনের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। আবরার হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সকল ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষাঙ্গণকে সম্পূর্ণ দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের যে গৌরবোজ্জ্বল অতীত ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা তাকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রসংগঠনের ওপর দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির নিষ্ঠুর প্রভাব। ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী কর্তৃক বাক্স্বাধীনতার ওপর নৃশংস আঘাতের সূতিকাগার রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশের পরমত অসহিষ্ণুতা ও অসুস্থ একচ্ছত্রায়িত ক্ষমতার রাজনীতি, যা এক বিধ্বংসী তাড়নায় বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আমরা উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত। আশাকরি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বশীল অংশ আমাদের এই উৎকণ্ঠার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারবেন, অনুতপ্ত হবেন এবং শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ও সর্বোপরি আইনের শাসন এবং প্রজন্মের কল্যাণ বিবেচনায় ছাত্রসংগঠনগুলোকে অসুস্থ রাজনীতির কালো থাবামুক্ত করবেন। একইসাথে, নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতির বিকাশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলকে সত্যিকার অর্থেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরিত করতে আমূল সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।”

দেশের তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে নির্দলীয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আজ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে উল্লেখ করে ড. জামান বলছেন, “দেশের ক্রান্তি লগ্নে শিক্ষার্থীরাই বারবার সোচ্চার হয়েছেন, কার্যত জাতিকে পথ দেখিয়েছেন, সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ তাদেরই উত্তরসূরিদের ব্যবহার করা হচ্ছে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের প্রক্রিয়ায় তারা অন্যতম সহযোগীতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একদিকে বহুমুখী ক্ষমতার অপব্যবহার, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাস্তানি, মাদকব্যবসাসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যাতে জড়িয়ে পড়ছেন না। 

আবরার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “আমরা আহ্বান জানাতে চাই সরকারের প্রতি, যেন তাঁরা উপলব্ধি করেন যে, আবরার হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক অঙ্গণে দীর্ঘদিনের লালিত মরণব্যাধির লক্ষণ মাত্র। এর প্রতিকার সরকারেরই হাতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গণে আরো যেসব অনিয়ম, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর মতো এই ঘটনাও শেষ পর্যন্ত ধামাচাপা দেওয়া হলে এর দায় তাঁদেরই বহন করতে হবে। ফাঁকা আশ^াস নয়, আমরা কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। পাশাপাশি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গণে দুর্বৃত্তায়ন থেকে যারা লাভবান হয়েছেন তাদের চিহ্নিত করুন এবং বিচারের মুখোমুখি করুন। কারণ তাঁরা দেশের যে ক্ষতি করছেন, তা অপূরণীয় ও দীর্ঘমেয়াদি, গণতন্ত্রের জন্য ও মেধাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যাশার পথে ভয়ংকর প্রতিরোধক। তবে, সদিচ্ছা থাকলে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা এখনো সম্ভব। দেশের তরুণ সমাজের, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তাদের উদ্বেগের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন।”

এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর