শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৩১ পিএম


ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি: পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ  মারামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:০৬, ১৪ মে ২০১৯  

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ দুই বছর। আর সম্মেলনের এক বছর পর সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে গতকাল সোমবার বিকেলে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ৩০১ সদস্যের এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে ঘোষিত কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে সাবেক কমিটির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যায় তারা মিছিল বের করলে তাতে পদপ্রাপ্ত নেতারা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনেও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিত ও পদধারীরা মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন। ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান ও কামাল খানের নেতৃত্বে পদপ্রাপ্তরা তাতে হামলা চালায়। পদবঞ্চিতরা পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। মিছিলে পদবঞ্চিত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়। পদবঞ্চিত নেতারা সবাই সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী।

পদবঞ্চিতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, সাবেক পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক শেখ সাগর আহমেদ, স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক চিন্ময় রায়, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, উপ-স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, সাবেক উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগ, উপপ্রচারবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার রবি, উপপরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজিব, সাবেক সদস্য তানবীর হাসান সৈকত, জসীমউদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, জগন্নাথ হলের সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, ফজলুল হক হলের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশিম, সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়াল, শহীদুল্লাহ হলের সভাপতি সাকিব হাসান, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন রিফাত, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী প্রমুখ।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের মেয়ে হলগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা নেত্রীদের উপসম্পাদক পদ দেওয়ায় তাঁরাও পদবঞ্চিতদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁরা হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার, কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু তন্বী, সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা প্রমুখ।

এ বিষয়ে সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ উদ্দিন বাবু বলেন, ‘কমিটিতে ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। যাঁরা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে কোনো দিন থাকেননি তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিবাহিত ও বয়স না থাকাদের পদ দেওয়া হয়েছে। এই বিতর্কিত কমিটি আমরা মানি না। আমরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি আশা করছি।’

তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘এ কমিটি আমাদের মতো ত্যাগীদের জন্য অপমান। ক্ষোভ জানাতে গেলে আমাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। আমি পদত্যাগ করছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলনে হামলা

ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ শেষে পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাতে হামলা চালিয়েছেন সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে গেলে পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহ স্লোগান দিতে থাকে। তাদের মধ্য থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে শিবির বলে আখ্যায়িত করা হয়। জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এ কথার প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। পদপ্রাপ্তদের পক্ষে হামলায় নেতৃত্ব দেন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। হামলায় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তানভীর ভুঁইয়া শাকিল, ডাকসুর সদস্য ও কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক এবং রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তারসহ ১০ জন আহত হয়। চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। পরে আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর