সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯ ১৫:০৪ পিএম


ছাত্রদের হাতে মারের আতঙ্কে তটস্থ ব্রিটিশ শিক্ষকরা

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ২১ এপ্রিল ২০১৯  

কাগজে কলমে সভ্যতার ধ্বজাধারী হলেও ব্রিটেনের শিক্ষকরা মোটেও নিজেদের তেমন মনে করেন না। আর করবেনই বা কিভাবে? কারণ ২৪ শতাংশ শিক্ষক সেখানে সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন। ব্রিটেনে প্রকাশিত এক জরিপ বলছে সেখানে বহু শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের দ্বারা সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন। দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষকদের একটি ইউনিয়নের পাঁচ হাজারের মতো সদস্যদের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানায়।

জরিপে বলা হয়েছে, অন্তত ২৪ শতাংশ শিক্ষক বলছেন তারা সপ্তাহে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হন। এছাড়া প্রতি ১০ জনে চারজন বলছেন তার মৌখিকভাবে হুমকি পেয়েছেন।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে মৌখিক দুর্ব্যবহার এখন তাদের জীবনের দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক শিক্ষক বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। আমি এখনকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে চরম অধঃপতন দেখছি। তিনি আরো বলেছেন, এখন এটা ধরেই নেয়া হয় যে, শিক্ষকরা মৌখিক দুর্ব্যবহার সহ্য করবে। আর সে কারণেই এমন আচরণ ঠেকাতে কোন ধরনের পদক্ষেপে কারোরই যেন কোনো আগ্রহ নেই।



আরেক শিক্ষক বলেন, আমার স্কুলতো গত কয়েক বছরে রীতিমতো একটা ভীতিকর জায়গায় পরিণত হয়েছে। আমি করিডোরে বের হই এমন সময়ে যখন শিক্ষার্থীরা কাসে রয়েছে। তা না হলে আমার মনে হয় যে আমি বোধহয় ওদের পায়ের নিচেই চাপা পড়ে যাবো, নতুবা ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবো। আর না হলে অন্তত কোন ধরনের গালি খেতে হবে আমাকে।

ব্রিটেনের শিক্ষা অধিদপ্তরের এক তথ্যমতে এমন ঘটনা বাড়ছে। সংস্থাটির হিসেবে শুধু ২০১৬-১৭ সালেই ৭৪৫ জন শিক্ষার্থীকে স্কুলে বয়সী কর্মকর্তা, কর্মচারী অথবা শিক্ষককে শারীরিক হেনস্থার জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়া প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীকে একই অপরাধে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কার করা হয়। আর ৬৫৫ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো মৌখিক দুর্ব্যবহারের জন্য।

শিক্ষার্থীদের এ হারটি আগের বছর একটু কম ছিল।

 

সংবাদ মাধ্যমে অতিমাত্রায় সন্ত্রাসী হামলা এবং কট্টরবাদীদের খবর প্রকাশের ফলে ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদের মনে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে যেকোনো সময় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার ভয়ঙ্কর ভীতি কাজ করছে। এমনই তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটেনের শিশু কিশোরদের মাঝে মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে কাজ করা মার্কেটিং গবেষণা সংস্থা চাইল্ডওয়াইজ এক সার্ভে রিপোর্টে।

চাইল্ডওয়াইজ এর গবেষকরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাস, সংঘর্ষ, এক্সট্রিমিজম বা যুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়ের উপর ব্রিটিশ শিশু কিশোররা মারাত্মকভাবে উদ্বিগ্ন এবং উৎকণ্ঠিত। মিডিয়ায় সন্ত্রাসের খবর ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের আচরনের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা চালায় সংস্থাটি।

প্রায় ১৫ শ` শিশু-কিশোরের উপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, শিশু-কিশোররা মনে করে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সন্ত্রাস ও ভয়ের খবর বেশি প্রচার করা হয়। তারা মনে করে, সমাজে দুশ্চিন্তার বড় বড় কারণ বুলিং, রেসিজম ( বর্ণবৈষম্য), শিশু নির্যাতন এবং চাকরি প্রাপ্তি নিয়ে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো পাশে রেখে বরং সন্ত্রাসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে। এ কারণে প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন শিশু-কিশোরই সন্ত্রাসী হামলার ভয়ের কথা প্রকাশ করেছে। তারা নিজেরাই য কোনো সময় হামলার শিকার হতে পারে বলে ভয় তাদের মনে। এই উদ্বেগের ফলে যেকোনো সময় যেকোনো শিশু-কিশোরের জীবনের গতি বদলে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাবার আশঙ্কার কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।

বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানি রেজা গোলামি বলেছেন, এই সার্ভে চালানোর সময় শিশু-কিশোররা যে ভাবে তাদের ভয়ের কথা জানিয়েছে, সেটি মারাত্মকভাবে বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে যেভাবে ফলাও করে মিডিয়াও প্রকাশ ও প্রচার করা হয় তাতে শিশু-কিশোরদের মনে এর প্রভাবে কতোটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে সেই ছোট্ট বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবি না। এসব নেতিবাচক সংবাদগুলো শুধু সংবাদ মাধ্যম নয়, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সামাজিক মাধ্যম হয়েও শিশু-কিশোরদের হাতে চলে যায়। বড়দের কাছ থেকেও শিশু-কিশোররা এসব ঘটনা দুর্ঘটনার কথা শুনে।

এডুকেশন বাংলা/একে

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর