বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০ ৮:০২ এএম


চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি ২৩১ জন চিকিৎসক,কিন্তু কেনো?

সাইদুর রহমান

প্রকাশিত: ০৫:৫৬, ১৪ মে ২০২০  

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সুপারিশ করেছে কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি ২৩১ জন চিকিৎসক। এই নিয়োগবঞ্চিতরা বলছেন, করোনার এই বিশেষ সময়ে নিয়োগ পেলে তারা দেশের জন্য কাজ করতে পারতেন। এজন্য নিয়োগবঞ্চিত চিকিত্সকরা মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তাদের স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, পিএসসি প্রকাশিত ৩২-৩৯তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে। এই গেজেট থেকে তারা বাদ পড়েন। এই সংখ্যা ২৩১ জন। এই তালিকায় আছেন ৩২তম বিসিএসের ১১ জন, ৩৩তম ১১৪ জন, ৩৪তম ১০ জন, ৩৫তম ৬ জন, ৩৬তম ৫ জন, ৩৭তম বিসিএসের ১৪ জন এবং সর্বশেষ ৩৯তম বিসিএসের ৭১ জন।

নিয়োগ না পাওয়ার কী কারণ থাকতে পারে জানতে চাইলে কয়েকজন চিকিত্সক বলেন, তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিজেদের উদ্যোগে যোগাযোগ করে জেনেছেন নেতিবাচক পুলিশ প্রতিবেদনের কারণে তারা বাদ পড়েছেন। এজন্য তারা দিনের পর দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিয়েও সুফল পাননি। এই অবস্থায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদনপত্র লেখেন তারা। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, দেশে এখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তারা কাজ করতে চান। এজন্য মানবিক দিক বিবেচনা করে যেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যে কোনো স্থানেই কাজ করতে তারা প্রস্তুত আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী বলেন, ৩২তম বিসিএসের পর আরো ৮টি বিসিএস চলে গেছে। এই সময়ের মধ্যে অগণিতবার তিনি মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন কিন্তু নিয়োগ পাননি। আরেক প্রার্থী বলেন, বিসিএসে পাশ করেছি। পোস্টিং কোথায় কেউ জানতে চাইলে লজ্জায় পড়ে যেতে হয়। পরিবারের সবাই হতাশ। নিয়োগবঞ্চিতরা জানান, তাদের কারোরই চাকরির বয়স নেই। একেকটি বিসিএসে পিএসসি থেকে নিয়োগ পেতে ৩ থেকে ৪ বছর লেগে যায়। এরপর প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লে হতাশার শেষ থাকে না। এই অবস্থা থেকে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই আমাদের রক্ষা করতে পারেন। এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, পিএসসির কাজ উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা। নিয়োগের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, নেতিবাচক প্রতিবেদনের জন্য অনেকে বাদ পড়ে। তবে চিকিত্সকদের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে অনেককে নিয়োগের নির্দেশও দিয়েছি। তারপরও যাদের প্রজ্ঞাপন হয়নি তাদের বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় তা দেখা হচ্ছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর