বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:০০ পিএম


চাকরির ভাইভা দিতে গিয়ে অপহরণ, ফোনে ১ লাখ টাকা দাবি পরিবারের কাছে

প্রকাশিত: ২০:৩১, ১৯ জুন ২০১৯  

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন (২২)। শ্বশুরবাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামে থেকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

সোমবার (১৬ জুন) সিংগারদিঘি থেকে মাওনা চৌরাস্তায় যাওয়ার জন্য তিনজন যাত্রী ওঠেন তার অটোরিকশায়। পথেই অটোরিকশার এক যাত্রী চালক আলমগীরকে জানান, তিনি বহুজাতিক কোম্পানি কোকাকোলার ম্যানেজার। ভালো বেতনে তার কিছু বিক্রয়কর্মী দরকার। এমন খবরে অটোরিকশাচালক আলমগীর তার শ্যালক শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের ফরহাদ মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিনকে (১৯) চাকরি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে আলমগীরের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে সি-গাল মোড়ে নেমে যান যাত্রীরা।

ওই দিন রাতে চাকরির বিষয়ে কথা হওয়া অটোরিকশার যাত্রী আলমগীরকে ফোন করে পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তায় দেখা করতে বলা হয়।

কথামতো আলমগীর তার শ্যালক সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি খাবার হোটেলে দেখা করেন। সেখান থেকে অফিসে গিয়ে চাকরির ভাইভা (সাক্ষাৎকার) ও নিয়োগ সম্পন্ন করে দেয়ার কথা বলে সালাউদ্দিনকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকাগামী গাড়িতে ওঠেন তারা। এরপর থেকে সালাউদ্দিনের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এতে উদ্বেগ বাড়তে থাকে দুলাভাই আলমগীর ও সালাউদ্দিনের পরিবারের।

ওইদিন রাত ১০টার দিকে আলমগীরের মুঠোফোন থেকে অপহরণের বিষয়টি পরিবারকে জানান অপহরণকারীরা। সেই সঙ্গে মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করেন তারা। অন্যথায় সালাউদ্দিনের দুটি কিডনি বিক্রি করে দেয়ার কথা জানানো হয়।

এ অবস্থায় সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে তার পরিবারের সদস্যরা ওইদিন রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে শ্রীপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব কুমার সাহার নেতৃত্বে অভিযানে নামে পুলিশ।

এসআই রাজিব কুমার সাহা বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পরই ভিকটিম সালাউদ্দিনকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ। এ সময় অপহরণকারীদের মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে তাদের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অপহরণকারীরা দ্রুত জায়গা বদলাতে থাকায় তাদের অবস্থান নির্ণয়ে বেগ পেতে হয়।

একপর্যায়ে তাদের অবস্থান নির্দিষ্ট করতে মুক্তিপণ পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বর চাওয়া হয়। বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরে তিন হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে আবারও ওই বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। অপহরণকারীরা ওই টাকা তুলতে ঢাকার কারওয়ানবাজারের মসজিদ মার্কেটের পাশের একটি দোকানে যান। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম বলেন, অপহরণের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩২) ও একই এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে খোকন মিয়াকে (২৪) আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সুজন দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর