শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১৩:৫৫ পিএম


চাকরিজীবীদের পেনশন মঞ্জুরিতে বিলম্ব না করার নির্দেশ

মিজান চৌধুরী

প্রকাশিত: ০৮:৫০, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন মঞ্জুরিতে বিলম্ব না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে। মাসিক সুবিধার টাকা ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ শুধু পেনশনের বিষয়টি দেখার জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০’-এ এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এ আদেশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত চাকরিকালের জন্যও পেশন মঞ্জুরিতে বিলম্ব করা যাবে না। প্রয়োজনে মোট চাকরিকাল থেকে বিতর্কিত সময়টুকু (যদি থাকে) বাদ দিয়ে এ হিসাব করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চাকরি ২৫ বছর বা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য পূর্ণহারে পেনশন মঞ্জুর করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি হচ্ছে কিনা তা মনিটরিংয়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু বিধি ও পদ্ধতি যুক্ত করে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন পদ্ধতিকে সহজ করে আদেশ জারি হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে অবসরে যাবেন এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন কেইস প্রক্রিয়াকরণে সহায়তার জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও পরিদফতরে একজন কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকবেন। এর নাম হবে কল্যাণ কর্মকর্তা। এ কর্মকর্তার কাজ হবে পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা। এ ধরনের কর্মকর্তা মনোয়ন দিয়ে অর্থ বিভাগকে অবহিত করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ।

সূত্র জানায়, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করা হলে তিনি অবসরের কোনো সুবিধা পাবেন না। তবে বিশেষ বিবেচনায় সরকার অনুকম্পা হিসেবে অবসর সুবিধা দিতে পারবে। এছাড়া অবসরে যাওয়া সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা থাকলে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের এক বছরের মধ্যে এটি নিষ্পত্তি করতে হবে।

এর বাইরে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকে এবং এতে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লেষ না থাকে তবে সংশ্লিস্ট চাকরিজীবী অবসর গ্রহণের সব ধরনের সুবিধা পাবেন।

এর আগে ২০০৯ সালে এ ধরনের আদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশের পরিবর্তে এটি কার্যকর করা হবে। তবে এ আদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কার্যকর হবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী অবসর গ্রহণের পর পেনশন পেতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। এটি প্রতিরোধ করতে এ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের পর পেনশনভোগীর মাসিক সুবিধার টাকা ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশে বলা হয়, অবসর গ্রহণের আগে ইএলপিসি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ওই আবেদনে প্রাপ্য ছুটি, ছুটি নগদায়ন, ভবিষ্যৎ তহবিলের স্থিতি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। এই আবেদন পাওয়ার ৫ মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

বিশেষ করে সরকারের আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে আদায়ের ব্যবস্থা করবে। এই প্রক্রিয়ার পর তিন মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ অবসরোত্তর ছুটি, ছুটি নগদায়ন ও পেনশন মঞ্জুরিপত্র জারি করবেন।

সেখানে বলা হয়, ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ পাওয়ার পর বিল দাখিলের পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা চলে যাবে।

নতুন আদেশে অডিট আপত্তি প্রসঙ্গে বলা হয়, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি থাকলে তার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আপত্তি পর্যালোচনা করে অডিট অধিদফতরে জবাব দেবে। তবে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের বার্ষিক অডিট আপত্তি ছাড়া অন্য কোনো আপত্তিতে তার ব্যক্তিগত দায় আছে কিনা এটি তিন মাসের মধ্যে নির্ধারণ করবে। তবে এ ধরনের ব্যক্তিগত দায় না থাকলে অবশ্য পেনশন মঞ্জুরি করার আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত দায় থাকলে এটি আদায় করে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্য থেকে কেটে রেখে পেনশন কেইস নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পেনশন মঞ্জুরিতে বিলম্ব করা যাবে না।

এ আদেশে আরও বলা হয় নন গেজেট কর্মকর্তা ও কর্মচারী দু’টি সার্ভিস বুক পূরণ করে প্রতি মাসের ফেব্রুয়ারিতে হালনাগাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এটি না করলে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে কর্তব্যের অবহেলার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর গেজেটেড কর্মকর্তারা চাকরিসংক্রান্ত সব তথ্য ই-চাকরির বৃত্তান্তে ‘আইবিএএস প্লাস প্লাস’-এ অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয়, না-দাবি প্রত্যয়ন বা অন্যসব কাগজপত্রের অভাবে পেনশন কেইস নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর উপযুক্ত উত্তরাধিকারী আবেদন করবেন। এ আবেদন পাওয়ার পর আনুতোষিকের শতকরা ৮০ ভাগ এবং প্রাপ্য পূর্ণ নিট পেনশন সাময়িকভাবে দেয়া হবে। পরে কমপক্ষে ৬ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে কেইসটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর পেনশনের বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে।

জানা গেছে, বতর্মান সরকারি অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় সাত লাখ। এর মধ্যে শতভাগ পেনশন বিক্রি করে দিয়েছেন এমন সংখ্যা এক লাখের উপরে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর