শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:৫৭ পিএম


চলতি সপ্তাহেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ১১:১৮, ১৯ আগস্ট ২০১৯  

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে শিগগির। তা চলতি সপ্তাহেও হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। গত বুধবার এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ করা প্রায় দুই হাজার ৭০০ স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় দুই হাজার ৭০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণ করেছে। এর মধ্যে আছে প্রায় ৫০০ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, এক হাজারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬০টির বেশি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শতাধিক উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, অর্ধশতাধিক ডিগ্রি ও অনার্স-মাস্টার্স কলেজ, ৫১২টি বিভিন্ন পর্যায়ের মাদরাসা এবং ৪৮৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে যেদিনই প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক না কেন তা গত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার এমপিও নীতিমালার শর্ত পূরণই এমপিওভুক্তির একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে ২০ থেকে ২২ উপজেলায় যোগ্য স্কুল-কলেজই পাওয়া যায়নি।

২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালায় একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি পেতে প্রধান চারটি শর্ত রাখা হয়েছে। এগুলোর জন্য রাখা হয়েছে ১০০ নম্বর। এতে একাডেমিক স্বীকৃতির তারিখের জন্য রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর। প্রতি দুই বছরের জন্য পাঁচ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছর হলে পাবে ২৫ নম্বর। শিক্ষার্থীর কাম্য সংখ্যা থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান পাবে ১৫ নম্বর এবং এর পরবর্তী ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য পাবে পাঁচ নম্বর, সর্বোচ্চ ২৫ নম্বর। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এমপিও নীতিমালার ২২ ধারা অনুযায়ী, শর্ত শিথিল করে দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান রাখা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষায় অনগ্রসর, ভৌগোলিকভাবে অসুবিধাজনক, পাহাড়ি এলাকা, হাওর, বাঁওড়, চরাঞ্চল, নারীশিক্ষা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা হতে পারে।

জানা যায়, গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়। ৯ হাজার ৬১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে।

বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় পাঁচ লাখ। প্রতিবছর এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি শর্ত পূরণ করা স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্ত হলে তাঁদের পেছনে বছরে ব্যয় হবে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। আর মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের পেছনে বছরে সরকারের খরচ হবে আরো ৫৪০ কোটি টাকা।

জানা যায়, ২০১০ সালে সর্বশেষ এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এরপর শিক্ষকরা আন্দোলন করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এমপিওভুক্তি সম্ভব হচ্ছে না। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানান এমপিওভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তির দাবিতেই আমরা এতদিন আন্দোলন করেছি। আর একটি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির প্রধান যোগ্যতা তার স্বীকৃতি। তাই আশা করব, সরকার দ্রুতই সকল নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেবে।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর