রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ১০:৪২ এএম


বয়স ৩৫ দাবি

চলতি সংসদ অধিবেশনে বয়স বৃদ্ধির ঘোষণা না দিলে আন্দোলন

প্রকাশিত: ০০:৪৪, ৯ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৮:১৮, ১০ জুন ২০১৮

চলতি বাজেট অধিবেশনে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ৩৫ বছরে উন্নীত না করা হলে আবারও আন্দোলনের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের নেতারা। 

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

গত ৬ জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম  জাতীয় সংসদে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ন্যুনতম ৩৫ বছর বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই এই বিষয়ে প্রদত্ত ব্যাখ্যার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বয়স ৩৫ করার দাবির পক্ষের চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। সেখানে অনুর্ধ্ব ৩০ ও ৩০ ঊর্ধ্ব বলে শ্রেণী বিন্যাস করা সংবিধান পরিপন্থী। কেননা, বয়সের সীমাবদ্ধতা প্রদান করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই অসমতার পরিপূর্ণ। সীমা আরোপ করা কখনোই সমতা বিধান করে না, করে শুধুমাত্র শ্রেণী বিন্যাস। আর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী তথা মন্ত্রীর এইরূপ শ্রেণী বিন্যাস মূলক ও সংবিধান পরিপন্থী মন্তব্য হতাশাব্যঞ্জক ও নিন্দনীয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইটে গত ২০১৩ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর প্রকাশিত উন্নয়নের ধারা শীর্ষক প্রবন্ধে বলা হয়েছিল “আধুনিক ও বহুমুখী প্রশাসনের জন্য, ৩ লাখ পদ তৈরী করা হয়েছে এবং চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করা হয়েছে।” মাননীয় মন্ত্রী সমীপে প্রশ্ন হচ্ছে তিনি “আপাতত” বলতে তিনি কতটুকু সময়ের ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছেন? কেননা ১০ বছর পর তার “আপাতত” শব্দটি তার দল হতে প্রকাশিত প্রবন্ধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

 মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে তার প্রদর্শিত তথ্যগুলো অবশ্যই যৌক্তিক হবে। কিন্তু, সেশনজট মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ৭ (সাত) সরকারি কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত, ২০১৪-১৫, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ২০১৭ সনের স্নাতকোত্তর ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সময়সূচী ও কেন্দ্রতালিকা প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।

প্রকাশিত সময়সূচি অনুসারে ২০১৭ সালের স্নাতক ২য় বর্ষ (নিয়মিত, অনিয়মিত, গ্রেড উন্নয়ন) পরীক্ষা ৩১ মে ২০১৮ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২৮ জুলাই ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত চলবে। ২০১৪-২০১৫ সেশনের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা ২০১৯ সালে হতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল প্রকাশের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভূক্ত শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ২০১২ সালের স্নাতকের ফলাফল ২০১৫ সালে, তেজগাঁও কলেজের ২০১৩ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে, সিদ্ধেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের ২০১৪ সালের ব্যবসা প্রশাসনের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৩ সালের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০১৫৮ সালে। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল বর্তমান সরকারেরই সময়কাল। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রী তথা একজন জনপ্রতিনীধি হিসেবে তিনি তার দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।

 কেননা, এই সেশনজটে পীড়িত মানুষগুলোই তাদের অধিকার রক্ষার্থে তার দল এবং তাকে নির্বাচন করেছিলো। আর ১০ বছরের শাসনাসলে শুধুমাত্র “বর্তমান কথাটি  তেমন তাৎপর্য বহন করেনা। কেননা, অতীতে যারা ছিল তারা যেমন তাদের নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিল, তেমনি ভবিষ্যতে যারা থাকবে তারাই তাদের পূনরায় নির্বাচিত করবে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এইরূপ অদুরদর্শীতা পূর্ণ ও বাস্তবতা বর্জিত মন্তব্য হতাশা ও নিন্দাজনক।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃষ্ট সেশনজটের দ্বায় ভার যেমন রাষ্ট্রের গায়েই বর্তায়, তেমনি ডিজিটাইজেশনের এই যুগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ প্রদানে সৃষ্ট প্রশাসনিক জটিলতার দ্বায় ভার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গায়েই বর্তায়। আর যেখানে বয়সসীমাই অযৌক্তিক, সেখানে মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতার দ্বায়ভার কেন কর প্রদানকারী তথা জনগণ বহন করবে?

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, যেখানে প্রতিযোগীতাই নিশ্চিত করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচনে সেখানে মাননীয় মন্ত্রী কেন প্রতিযোগীতা হ্রাস করতে চাচ্ছেন তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না। তিনি বলেছেন “অনুর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে।” মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রশ্ন, তিনি কি শুধুমাত্র অনুর্ধ্ব ৩০ দ্বারা নির্বচিত হয়েছিলেন? জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি যে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন সেই সকল ব্যয় কি ৩০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিরা কর হিসেবে বহন করে না? এইরূপ জনগণের মধ্যে শ্রেনীবিন্যাস করলে তো কর ব্যবস্থাতেও শ্রেনীবিন্যাস করা প্রয়োজন, অনুর্ধ্ব ৩০ বছরের জন্য এইরকম, ৩০ ঊর্ধ্বদের জন্য কর মওকুফ। কর বৃদ্ধির কথা বলবো না, কেননা আমরা বাংলাদেশের নাগরিকগণ সাধারণতই বেশি মাত্রায় কর দিয়ে থাকি। আর যে ব্যক্তি ৩০ ঊর্ধ্ব, মন্ত্রী মহোদয়ের ভাষ্যমতে তারা তো সুযোগ লাভের অযোগ্য, আর সুযোগ বঞ্চিত একজন ব্যক্তির পক্ষে কর প্রদান করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। সেখানে অনুর্ধ্ব ৩০ ও ৩০ ঊর্ধ্ব বলে শ্রেণী বিন্যাস করা সংবিধান পরিপন্থী। কেননা, বয়সের সীমাবদ্ধতা প্রদান করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই অসমতার পরিপূর্ণ। সীমা আরোপ করা কখনোই সমতা বিধান করে না, করে শুধুমাত্র শ্রেণী বিন্যাস। আর একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী তথা মন্ত্রীর এইরূপ শ্রেণী বিন্যাস মূলক ও সংবিধান পরিপন্থী মন্তব্য হতাশাব্যঞ্জক ও নিন্দনীয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের আহ্ববায়ক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, যদি চলতি বাজেট অধিবেশন ১২ জুলাই, ২০১৮ ইং তারিখের মধ্যে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ন্যূনতম ৩৫ বছরে উন্নীত না করা হয় তাহলে আমরা বিগত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর পরিবর্তে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

হারুন-অর-রশিদ, সুদীপ পাল,আনিসুল হক,শাখওয়াত হোসেন সৈকত, লিউনা হক,তানভীর আহম্মেদ,মারজুক হোসেন, বিজিত শিকদার,কামরুন নাহার ঝুমা, রিপা ইসলাম, সোনিয়া চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, অনিন্দ রায় ও মোঃ শওকত মাহমুদ শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর