শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:৩৬ পিএম


চমেকের ৮০০ কোটি টাকার জমি বেদখল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৩, ২০ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১২:০৩, ২০ এপ্রিল ২০১৯

নানা উদ্যোগের পরও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৮০০ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা যাচ্ছে না। বছরের পর বছর বেহাত হওয়া সম্পত্তি ভোগদখল করে যাচ্ছেন অবৈধ দখলদাররা। মাঝে মধ্যে এ নিয়ে তৎপরতা শুরু হলেও বৈঠক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে উদ্ধার কার্যক্রম।

অথচ জমির অভাবে বিশেষায়িত হাসপাতালসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না চমেক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে চীন ও জাপান সরকারের অর্থায়নে পৃথক দুটি ইউনিট নির্মাণে একই জায়গা নির্ধারণ করা হয়। চমেক হাসপাতালের একই স্থানে ইউনিট দুটি নির্মাণে জায়গা বরাদ্দ দেয়ায় এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং ইউনিট ও চীন সরকারের অর্থায়নে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট নির্মাণে প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ আটকে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, চমেকের বেদখল হওয়া সম্পত্তিতে যারা ঘরবাড়ি তুলেছেন তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।

সূত্র জানায়, চমেকের নামে অধিগ্রহণকৃত ৮০ দশমিক ৮৩৬ একর ভূমির মধ্যে বর্তমানে ৭২ একর জমি হাসপাতালের দখলে আছে। অবশিষ্ট ৮ দশমিক ৮৩৬ একর সম্পত্তি বেদখল হয়ে আছে। যার বাজার মূল্য আট কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ৯ জানুয়ারি চমেকের বেহাত হওয়া ৮ দশমিক ৮৩৬ একর ভূমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও দালাল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এরই মধ্যে অবৈধ দখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে সার্ভে কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ব্যবস্থাপনা কমিটির তৃতীয় সভায় হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এগুলো হল- ১০০ বেডের ক্যান্সার ইউনিট স্থাপন, ৫০০ বেডের নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ, ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা, ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জলাধার নির্মাণ, আধুনিক লন্ড্রি প্ল্যান্ট স্থাপন, স্টোর কমপ্লেক্স নির্মাণ, মোটরসাইকেল পার্কিং শেড নির্মাণ এবং গাড়ির পার্কিং উন্নয়ন, ইন্টার্ন হোস্টেল নির্মাণ, বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ, বহুতল চিকিৎসক ও নার্স ডরমেটরি নির্মাণ। তবে প্রয়োজনীয় জমির অভাবে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

৯ এপ্রিল চমেক হাসপাতাল এলাকায় অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের টিম লিচু বাগান, মসজিদ কলোনি ও গোয়াছি বাগান স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ মাইকিং করা হয়। মাইকিংয়ে অবৈধ বসবাসকারীদের দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদ করবে। তবে সরে যেতে নির্দিষ্ট কোনো সময় বেধে না দেয়ায় বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না অবৈধ বসবাসকারীরা।

চমেক হাসপাতালে কর্মরত এক হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণীর স্টাফদের জন্য ৮৯টি স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। হাসপাতালের লিচু বাগান ও মসজিদ কলোনিতে এসব কোয়ার্টার অবস্থিত। তবে চমেক হাসপাতালের বেদখল সম্পত্তির বেশির ভাগ রয়েছে গোয়াছি বাগান এলাকায়। প্রায় ছয় বছর আগে ওই এলাকায় পাঁচটি স্টাফ কোয়ার্টার ভবন ছিল। ২০১৩ সালে ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। মূলত ওই ভবনগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের দখলে নেন। বর্তমানে অবৈধ দখলদাররা নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরও জমির অভাবে ২০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে দুই একর জায়গার জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। একই সময়ে চমেক হাসপাতাল মাধ্যমিক স্কুলের জন্য বরাদ্দ দেয়া জমি তিন সংস্থার নামে রয়েছে।

ওই জমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, গণপূর্ত বিভাগ ও কালেক্টরের নামে খতিয়ানভুক্ত থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ড (নামজারি) সংশোধন করতে চমেক হাসপাতাল পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নামে দলিল না থাকায় নানা উদ্যোগ নেয়ার পরও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও জেলা প্রশাসকের কাছে জানিয়েছি। এ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।’ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের মাধ্যমে কেবল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব বলে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান।

সৌজন্যে: যুগান্তর

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর