রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৪ পিএম


চবিতে নিয়মের বেড়াজালে ইয়াসিনসহ বহু মেধাবীর ভর্তি নিয়ে শঙ্কা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:০৯, ৫ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৫, ৫ নভেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় ১৮৩তম স্থান অর্জন করেছেন ইয়াসিন আরাফাত। এই ইউনিটে আসনসংখ্যা এক হাজার দুইশর বেশি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের বেড়াজালে পড়ে তিনি চবিতে ভর্তি হতে পারবেন না।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, “২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যারা ২০১৮ সালের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলে আবেদনের যোগ্য ছিল না, তবে ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় (মান উন্নয়ন) অংশগ্রহণ করে যোগ্যতা অর্জন করছে তারা আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।”

শিক্ষার্থীরা যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘গতবার ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্যরা যে এবার মান উন্নয়নের ফল দিয়ে ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্য হবেন না’ তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

ইয়াসিন বলেন, “যেহেতু আমরা প্রবেশপত্র পেয়েছি, সুতরাং আমরা পরীক্ষার্থী হিসেবে বৈধ। মেধা তালিকায় আমাদের নাম আসার পর আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেইনি। এখন চবিতে ভর্তি হতে না পারলে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

মেধা তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তিচ্ছুদের সাক্ষাৎকারের জন্য শিগগিরই সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তার আগে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের আসন সংখ্যা সাড়ে এগারোশর মতো। এই ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকায় ২৩৩তম স্থান অর্জন করেছেন সৈয়দা মাসুমা উসমানী। তিনি বলেন, “গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হটলাইনে ফোন দিয়ে জানতে পারি গত বছর যারা আবেদনের যোগ্য ছিল, তারা এবছর মেধা তালিকায় থাকলেও ভর্তি হতে পারবে না। যদি তাই হয় তাহলে কেন আমাদের প্রবেশপত্র দেওয়া হল? কেন আমাদের নাম মেধা তালিকায় প্রকাশ করা হলো?

এ ইউনিট থেকে মেধা তালিকায় ১১৪০তম হয়ে উত্তীর্ণ মেহেদী হাসান শুভ বলেন, “কর্তৃপক্ষের ‘অস্পষ্ট সার্কুলার ও অব্যবস্থাপনার` কারণে একদিকে আমরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েছি, তেমনি চান্স পেয়েও ভর্তি হতে না পারায় আমরা হতাশ।”

‘বি’ ইউনিটের মেধা তালিকায় ৯৮৮তম স্থান পাওয়া আরেক ভর্তিচ্ছু ইসরাত জাহান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের ভর্তির সুযোগ না দেয়, তাহলে কেন আমাদের প্রবেশপত্র দিল? “প্রবেশপত্র দেওয়ায় একদিকে যেমন কষ্ট করে ঢাকা থেকে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছে, তেমনি বাড়তি অনেক টাকাও খরচ হয়েছে।”

এ ইউনিটের মেধাতালিকায় ১১৭৩তম স্থান পাওয়া রেহনুমা তাসনিম মুনমুন গতবছর নিজের অসুস্থতা ও হরতালের কারণে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।এবার মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “চবিতে পড়ব বলে অন্য কোথাও আর ফর্ম তুলিনি। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আমার স্বপ্ন, পরিশ্রম, চেষ্টা সব বৃথা যাবে? এর দায় কে নেবে?”

এবিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব আকবর হোছাইন বলেন, বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যারা আবেদনের যোগ্য ছিল, যাচাই-বাছাইয়ের পর শুধুমাত্র তারাই ভর্তি হতে পারবে।

তাহলে কেন অযোগ্যদের আবেদন গ্রহণ করা হলো এবং তাদের পরীক্ষা নেওয়া হলো জানতে কোনো সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, অযোগ্যরা নিয়ম না মেনে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে শুধু গতবার আবেদনে অযোগ্য শিক্ষার্থীরাই যে যোগ্য বিবেচিত হবেন, সে বিষয়টি ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। ফলে গতবারের যোগ্যরা এবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় এলেও ভর্তি হতে পারবেন না।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর