শনিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৭:৩৭ এএম


ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা পাবে নতুন বই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫০, ১২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৩, ১২ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে কাঁচা ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বইপত্রও নষ্ট হয়েছে। প্রবল বর্ষণে ভিজে গেছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের সব বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এতে বেশ বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে আশার কথা, বইপত্র নষ্ট হওয়া ছাত্রছাত্রীদের তাৎক্ষণিক বই দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্নিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেই এসব বই সংগ্রহ করতে পারবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গতকাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দৈব-দুর্বিপাকের কথা চিন্তা করেই সরকার প্রতি বছর মোট বইয়ের পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত ছাপিয়ে মজুদ রাখে। এ বছরও মোট ৩৫ কোটি বইয়ের বাফার স্টক আছে। এসব বই জেলা পর্যায়েই মজুদ আছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা থেকে তাকে একসেট বই দিয়ে দেওয়া হবে। এসব বই বিতরণে কোনো আলাদা অনুমোদন লাগে না বিধায় সময়ক্ষেপণ হবে না। চেয়ারম্যান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে যত শিক্ষার্থীই ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন, বই চাইলে প্রত্যেককেই নতুন বই দেওয়া যাবে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ জন্য পৃথক উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের (রুটিন) দায়িত্বে থাকা ড. অরুণা বিশ্বাস সোমবার বলেন, ঘূর্ণিঝড় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) বলা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের কাছ থেকে আমরা সার্বিক চিত্র পেয়ে যাব। এরপর সেগুলো মেরামত ও সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সামনে বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। সেটি মাথায় রেখেই দ্রুত সংস্কার করা হবে।

মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, তারা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছেন। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ উপজেলার তথ্য দেবেন। মহাপরিচালক বলেন, বিশেষ করে ১৪টি জেলার শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তারা ক্ষয়ক্ষতির বিশদ প্রতিবেদন চেয়েছেন। জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, বুলবুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেলে সেগুলোর সংস্কারে এলজিইডিকে বলা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদীর বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু বিদ্যালয়ের কাঁচা ঘর থাকা অংশটুকু ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। টিনের চাল উড়ে গেছে। কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের ওপর গাছপালা উপড়ে পড়েছে। তবে পাকা ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ততটা নয়।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মুয়াজ্জেম হোসেন জানান, `বুলবুলে`র তাণ্ডবে খুলনা বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলে আনুমানিক শতাধিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 সূত্র: সমকাল

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর