শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪৫ এএম


ঘুষের অভিযোগ : এমপিও বন্ধ হচ্ছে ৮৩ প্রতিষ্ঠান প্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৩, ৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১০:০১, ৫ নভেম্বর ২০১৯

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর সুপারিশের পরও শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। উল্টো নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমন ৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া প্রস্তুতি চলছে। আর নোটিসের জবাব আসার পরই তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রমতে, চলতি বছর ২৪ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩১ হাজার ৬৬৫ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করে। জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা-২০১৮-এর আলোকে ওই সুপারিশের পরও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধান এসব শিক্ষককে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি কেউ কেউ যোগদানের শর্ত হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এমন অভিযোগ উঠেছে মোট ১৮৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনটিআরসিএতে অভিযোগও জমা হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে এনটিআইসিএ ১৮৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি ও শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করে। এরপর ওইসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হলে ৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই এইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত বছর ১২ জুন এনটিআরসিএ থেকে জারি করা বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর ১৮.১ এর (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক এনটিআরসিএতে শিক্ষক চাহিদা দিলে ওই পদে মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে। প্যাটার্নের অতিরিক্ত চাহিদা দিলে সেই শিক্ষক কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাহ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করা হবে এবং পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর ভিত্তিতেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা এনটিআরসিএতে পাঠায় এবং সেই চাহিদার বিপরীতে ৩১ হাজার ৬৬৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে এনটিআরসিএ।

গত ১ অক্টোবর এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান এসএম আশফাক হুসেন ৮৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত ও ওইসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সুপারিশ দিয়েছে। এ সুপারিশের আলোকে গত ৩০ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এক চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অসম্মতি জানিয়েছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বেতন-ভাতা কেন বন্ধ করা হবে না এবং কমিটির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর জবাবের ওপর মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, আমি এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেছি। এনটিআরসিএ আমাকে নিয়োগের সুপারিশও করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানের কমিটি ও প্রধান শিক্ষক আমাকে নিয়োগ দিতে দিচ্ছে না। নিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ চেয়েছেন। এরপর আমি এনটিআরসিএতে লিখিত অভিযোগ করেছি।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এসএম আশফাক হুসেন বলেন, আমাদের কাছে প্রচুর অভিযোগ এসেছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্তভাবে ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কমিটি নীতিমালাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুককে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. সরকার আবদুল মান্নান বলেন, প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতেই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। কিন্তু যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের যোগদান করতে বাধা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এডুকেশন/কেআর /এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর