বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০ ১১:০৫ এএম


গ্রামাঞ্চলে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ০৭:২৬, ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৭:৪১, ৩ জুন ২০২০

মাধ্যমিক স্তরে শহর ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষায় বৈষম্য বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব দেখা যাচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব তো রয়েছেই। দুর্গম চর, হাওর ও পার্বত্যাঞ্চলে এ সমস্যা আরও প্রকট। নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ক্লাসও হয় না।

এসবের প্রভাব পড়ছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়। এমন অভিমত খোদ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের। শিক্ষাবিদরাও বলছেন, তৃণমূলে বিশেষ নজর এখনই দেওয়া না হলে শিক্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল আগামীতে আরও বেশি পিছিয়ে পড়বে। বৈষম্য আরও প্রকট হবে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গত রোববার প্রকাশ করা হয়। এবার সারদেশের পাসের গড় হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন। গত বছর এই জিপিএ ৫ ছিল এক লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। ফলে এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫; দুটোই বেড়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ চৌধুরী জানান, তার শিক্ষা বোর্ডে তিনটি পার্বত্য এলাকা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি রয়েছে। এই জেলাগুলোর কারণে এ বোর্ডের পাসের হার প্রতি বছরই অন্যান্য বোর্ডের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকে। এর বাস্তব কারণও রয়েছে। সমতলে যেসব সুবিধা রয়েছে, তা পার্বত্যাঞ্চলে নেই।

ভালো শিক্ষক সেখানে পাওয়া দুস্কর। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, এবারের পরীক্ষার্থীদের গড় মেধার মান একটু ভালো, যে কারণে জিপিএ ৫ বেড়েছে। শহরের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বিজ্ঞানে বেশি পড়ে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় তারা প্রচুর নম্বরও তুলতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে মানবিক শাখার শিক্ষার্থী বেশি। তারা ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পায় না। এসব কারণেও মফস্বলের ফল কিছুটা হয়তো পিছিয়ে থাকে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোকবুল হোসেন বলেন, শীর্ষে থাকলেও তার বোর্ডে গত সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে এবার। এবারই প্রথম এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। চেয়ারম্যান অধ্যাপক গাজী হাসান কামাল বলেন, প্রথমবারের ফলে তিনি খুশি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষায় বিত্তগত বৈষম্য তথা শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বৈষম্য বেড়ে যাওয়ার কথা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছি। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষায় অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমাতে সরকারকে এখনই নজর দিতে হবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর