বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৬:০৯ এএম


গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়:ভর্তির ফল জানতে এবারও কি দুর্ভোগ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৫২, ২ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:৪৬, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২০ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২১ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হবে বেলা ১২টায়। মোট ১০০ নম্বরের এই ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা-৩০ ইংরেজি- ৩০ এবং গণিতে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ নম্বর। প্রতি বছরের মত এবারও উত্তীর্ণ সর্বোচ্চ নম্বরধারী ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

আবেদন ফরম পূরণের সময় বিশেষ করে কোটা, পূর্বের স্কুল, জন্ম তারিখ. যোগাযোগের নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোটার ঘরে (6. Student of Govt. Primary School) টিক চিহ্ন দিতে হবে।

গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি লিংক

অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও আবেদন ফি জমা ১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২ টায় শুরু হয়ে চলবে ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১১.৫৯ পর্যন্ত। আবেদন সম্পন্ন হবার পর টেলিটক সিমের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৭০টাকা জমা দিতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী http://gsa.teletalk.com.bd এই ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র পুরণ ও টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর হতে এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদন ফি প্রদান করে ভর্তির আবেদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ১২০জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নির্দেশনা অনুযায়ি প্রশ্ন ধরণ এবার কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে। প্রশ্নগুলো সংক্ষিপ্ত আকারের হবে বলে তিনি জানান।

তবে মিজানুর রহমান নামের একজন অভিভাবক এডুকেশন বাংলাকে জানান, এই বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল পেতে অভিভাবক শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। পরীক্ষারপর গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফেসবুক থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়। যাদের স্মার্ট ফোন নেই বা ফেসবুক, ইন্টারনেট থেকে সহযোগিতা নেবার সুযোগ নেই তাদের পরের দিন জানতে হয়। কিছু অভিভাবক শিক্ষার্থী যখন ফল জেনে ঘুমায়, তখন কিছু অভিভাবক শিক্ষার্থী ফল না জেনে অস্থিরতা এবং নির্ঘুম রাত কাটায়।

রফিকুল ইসলাম নামের একজন অভিভাবক জানান, তার এক সন্তান এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবে। তিনি আশা করেন ফল জানতে তার কোনো ধরণের দূর্ভোগ পোহাতে হবে না। কর্তৃপক্ষ উপজেলায় নয় পরীক্ষা কেন্দ্রেই ফল প্রকাশ করবে। তিনি আরও বলেন, `কোনোভাবেই ফেসবুক ফল প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে না।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর ধরে গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পর খাতা মূল্যায়ন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়। পরে রাতভর জেগে থেকে ফল জানতে হয়। এভাবে ফল প্রকাশের কারণে ফল জানতে অভিভাবকদের যেমন দূর্ভোগে পড়তে হয় আবার কোনো কোনো অভিভাবকদের মধ্যে সন্দেহও তৈরি হয়।

আবুল কাশেম নামের আরেকজন অভিভাবক এডুকেশন বাংলাকে জানান, গত বছর তার মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিলো । পরীক্ষার পর তিনি সন্ধ্যা থেকে কেন্দ্রে ফল জানার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একসময় উপস্থিত অভিভাবকদের জানানো হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পরে ফল জানানো হবে, তখন তার সাথে উপস্থিত হাজারো অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৮৩২ সালে তৎকালীন আসাম সরকার এটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বর্তমান সিলেট বিভাগের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সঙ্গতকারণেই অভিভাবকরা তার সন্তানকে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষায় থাকে। প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ আসনের বিপরীতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে। উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ভর্তি পরীক্ষা।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর