সোমবার ০১ জুন, ২০২০ ৩:৪৭ এএম


গতি পাচ্ছে না টেলিভিশনে পাঠদান,পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় শিক্ষক

মুসতাক আহমদ

প্রকাশিত: ০৭:০৬, ৫ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১১:৪৬, ৫ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের টেলিভিশনে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা গতি পাচ্ছে না। লেকচার দিতে পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক। ভাইরাসের আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে চাচ্ছেন না। এছাড়া সংসদ টেলিভিশনের কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতিও এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে হাজির হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রতিটি শ্রেণির জন্য দৈনিক পাঁচটি করে পাঠদান রাখব। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদানের এ উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এর অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠদানের লেকচার সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোম বা মঙ্গলবার একই টিভিতে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, টিভিতে যে বিকল্প পাঠদান শুরু করা হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তার পরিধি পর্যাপ্ত নয়। ২ এপ্রিল পর্যন্ত সব বিষয় পাঠদানের আওতায় আনা যায়নি। বিশেষ করে ওইদিন পর্যন্ত বাংলা বিষয়ের পাঠদান শুরু করা যায়নি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে কেবল ইংরেজি, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং আইসিটি বিষয়ের ক্লাস হচ্ছে। সপ্তম শ্রেণিতে গণিত, বাংলা ও ইংরেজির মতো বিষয়ের পাঠদান এখনও শুরু করা যায়নি। অষ্টম শ্রেণিতে কেবল গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের পাঠদান চলছে। আর নবম শ্রেণিতে পাঠদান হচ্ছে আইসিটি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ইংরেজি এবং রসায়নের। বিভাগভিত্তিক এই শ্রেণির অন্য বিভাগের পাঠদানের কোনো খবর নেই। শুরুতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। এখন পর্যন্ত দশম শ্রেণির পাঠদান শুরুই হয়নি। বাকি চারটি শ্রেণির প্রতিটির দৈনিক দুটি করে বিষয়ের ২০ মিনিট করে ৪০ মিনিট পাঠদান করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে ৫ থেকে ৯ এপ্রিলের রুটিন। এতে দেখা যায়, আগের বিষয়গুলোর পাশাপাশি নবম শ্রেণিতে বাংলা ও পদার্থবিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণিতে বাংলা, গণিত, ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা যুক্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে মাউশি দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য ১ এপ্রিল বলেন, আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে সব বিষয়ে পাঠদানের মতো শিক্ষক পাইনি। তবে পরে কিছুটা পাওয়া গেছে। দুই শতাধিক লেকচার ইতোমধ্যে আমরা রেকর্ডিং করিয়েছি।



এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর