বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯ ২২:৪৭ পিএম


কোরআন তেলোয়াত ও শপথ পাঠ করে আমরন অনশন শুরু শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০৪, ২৫ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৪:০৪, ২৫ জুন ২০১৮

এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ১৬তম দিনে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরন অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা। আজ সোমবার সকালে পবিত্র  কোরআন তেলোয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় সঙ্গীত ও শপথ পাঠ করে এই অনশন শুরু করেন তারা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থ বরাদ্দ না করায় গত ১০ জুন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে তারা রাষ্ট্রপতি ও সকল সংসদ সদস্যদের কাছে স্পীকারের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে টানা ১৬ দিন শিক্ষকরা রাজপথে অবস্থান করলেও সরকারের কেউ তাদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি।

তবে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে শিক্ষা মন্ত্রনালয় নতুন এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এমপিওভুক্তির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে। তবে নীতিমালার শর্ত পূরন করে এমপিও নিতে হবে। ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কিভাবে আবেদন করতে হবে ও যাচাই বাছাইয়ের জন্য দু’টি কমিটি করেছে। এই দুই কমিটির সভাও আজ সোমবার ব্যানবেইসে শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে এমপিও করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। অথচ আমরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেই আগেরবারের কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। এখন আমরা সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন চাই। যেহেতু গত ১৫ দিনে আমাদের দাবির পক্ষে কোনো ঘোষনা আসেনি। তাই আজ থেকে আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ থেকে আমরন অনশন শুরু করলাম। দাবি আদায় না করে আমরা বাড়ি ফিরে যাবো না।

দিনাজপুর থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে আসা শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষকরা নাকি মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু এই মানুষ গড়ার কারিগর এখন ঢাকার রাস্তায় পলিথিন পেতে দিনের পর দিন বসে নিজেদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে, কিন্তু কারোর তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, আজ আমাদের ছাত্ররা অনেক বড় বড় স্থানে চাকরি করছে। অনেক পয়সা কামাচ্ছে। কিন্তু আমরা আজ কোথায়? তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষে পেটের দায়ে মাঠে কৃষিকাজ করি। তবুও সংসারে সচ্ছলতা ফেরে না। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ঘাম ঝরিয়ে শিক্ষা দেই। কিন্তু আমার সন্তানটি শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে অর্থের অভাবে।  

জানা যায়, এ পর্যন্ত এমপিওভুক্তির ২৭ বার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ নেই। কেউ কেউ সারা জীবন শিক্ষকতা করে জীবন সায়াহ্নে। কারও কারও জীবনের অর্ধেক পার হয়ে গেছে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে। প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাদের জীবন চলছে না-চলার মতোই। শিক্ষকতার মতো মহান পেশা বেছে নিয়ে তারা পার করছেন মানবেতর জীবন।

একই দাবিতে গত ২৬শে ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন শুরু করলে ৫ই জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসানের আশ্বাসে ঘরে ফিরে যান তারা। কিন্তু ২০১৮-২০১৯ সালে পেশ করা বাজেটে অর্থমন্ত্রী নন- এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে আলোচনা না করায় আবারো রাস্তায় নেমেছেন এই মানুষ গড়ার কারিগররা।

শিক্ষকরা বলছেন, এমপিওভুক্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু গত ১২ই জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতির সময় আরোপিত শর্তের সঙ্গে এই নীতিমালা সাংঘর্ষিক। উল্টো বাজেটেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে তেমন কিছুই উল্লেখ করা নেই।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর