শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫৭ পিএম


‘কোনো যড়যন্ত্রই জাতীয়করণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত থামাতে পারবে না’

নজরুল ইসলাম রনি

প্রকাশিত: ০৮:৪২, ২ ডিসেম্বর ২০১৯  

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে যখনই আমি এগিয়ে যাই ঠিক তখনই একটি অশুভ চক্র আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। বিরূপ মন্তব্য কারীদের কারণে আমার মন ভেঙে যায়। আজ প্রায় ২০ বছর ধরে শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ে কাজ করছি। কিন্তু বিনিময়ে কি পেলাম। আমি কখনো কারো ক্ষতি করিনি। শিক্ষকদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেকেই না বুঝে অনেক কিছুই বলে।

কিন্তু একটি অগ্রহণযোগ্য মনতব্র যে কতটা আত্মঘাতী এটা প্রকৃত শিক্ষকরাই বুঝেন। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু এ পেশার সম্মান রেখেই আমাদেরকে পেশাজীবী শিক্ষক রাজনীতি করতে হবে। আমি সব সময় শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান রেখেই কথা বলতে চেষ্টা করি। অনেকেই এ পেশায় নতুন না বুঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করেন। আপনার এ মনতব্র আমার কাজের গতিকে বিনষ্ট করে দেয়। আমি সংগঠন করে থাকি নিজের অর্থে।

কোনো চাঁদা বা প্রশ্নের এমন কি জমি বা অবৈধ কোনো ব্যবসা করে সংগঠন চালাই না। কোনো অনুষ্ঠান থাকলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নিজেরাই খরচ বহন করেন। আমি নিজে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রধান। শিক্ষক সমাজকে ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারী জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দীর্ঘ ১৯দিন অনশন ধর্মঘটে ছিলাম। শিক্ষক সমাজকে সেদিন কথা দিয়েছিলাম জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আজও কাজ করছি।

ঐচ্ছিক বদলি শিক্ষকদের প্রাণের দাবি। আমিও সেটা চাই। তবে সেটার সাথে জাতীয়করণের বিষয়টি জড়িত আছে। অনেকগুলো ধাপ আছে। বদলির বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের requirements লাগবে। softer তৈরি করতে হবে। অনেকের এসব বিষয়ে হয়তো জানা নেই। বদলি বিষয়ে যারা কাজ করছেন এরা আমাদের সংগঠনের লোক ছিলেন। ঐ নামকরণটিও আমার দেয়া।

কিন্তু একজন দুটি সংগঠন চালাতে পারেনা। আর শিক্ষকদেরকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের কারণেই বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(নজরুল) একটি আপোসহীন ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। এখানে ব্যক্তি স্বার্থের কোনো জায়গা নেই। এখানে শিক্ষক তন্ত্রের যথাযথ মূল্যায়ন হয়। কেউ এখানে এসে নেতা হয়ে ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া নিতে না পেরে কাপুরুষের মতো পদত্যাগও করে। তবে আমরা কাউকে মাইনাস করতে চাই না। নিজেরাই তাদের কৃতকর্মের জন্য মাইনাস হয়ে যায়। নতুন করে নেতা হতে চায়।

শিক্ষকদের মাঝে আজ একাধিক সংগঠন। দাবিও অনেক। এত দাবি এক সাথে করলে সরকার কি করবে? ২০১৮ সালে আমরা বেশ কয়েকটি সংগঠনকে নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন ও ধর্মঘট করেছিলাম। তার পর বিশ্ব মানবতার মা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে আমাদের অনশন ভাঙান। ঐসময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার কথামতো ৫%বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বৈশাখী ভাতা পরবর্তীতে কার্যকর হয়।

আজ সময় এসেছে জাতীয়করণে মহাসমাবেশ বা ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর আন্দোলনের। আর তখন ছোট খাট এসব এমনিতেই হতো। ঐচ্ছিক বদলি করতে সরকারের কোনো প্রকার টাকা পয়সা খরচ হবে না। আর এটা নিয়ে এত আলোচনা সমালোচনা জাতীয়করণের বৃহত্তর আন্দোলনকে গলাটিপে হত্যা করছে না?

হা বদলি প্রথা চালু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এটা আমরাই করবো ইনশাললাহ। কিন্তু জাতীয়করণকে পিছনে ফেলে কিংবা জাতীয়করণ আন্দোলনকে গলাটিপে হত্যা করে নয়। প্রিয় শিক্ষক বন্ধুগণ আসুন ঐক্যবদ্ধ হই সবাই। তবেই জাতীয়করণসহ সকল দাবি পূরণ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

[মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

লেখক: মো. নজরুল ইসলাম রনি, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষকসমিতি ও মুখপাত্র, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর