বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৪:২৬ এএম


কোটি মানুষের কর্মসংস্থানে স্বপ্নবাজেট ২০২০-২১ প্রস্তাবনা পেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৩৪, ২৩ মে ২০২০  

বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের দাবিতে ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকার জাতীয় স্বপ্নবাজেট ২০২০-২১ প্রস্তাবনা পেশ করেছে র মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস (এমডব্লিউইআর)।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে এমডব্লিউইআরের কার্যালয় হতে অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাজেট প্রস্তাবনাটি পেশ করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমডব্লিউইআর’র সদস্য মো. রিয়াদ চৌধুরী ও মো. রিয়াজুল ইসলাম, অলনাইনে মালয়েশিয়া থেকে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ওয়াহেদ সোহান, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মো. সাইফুল ইসলাম রনি, আসাদুল্লা লায়ন, সালাহ উদ্দীন আকাশ প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

আরিফ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বর্তমানে পালিত হচ্ছে ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৫০তম বর্ষ তথা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় স্বপ্নবাজেট ২০২০-২১ প্রস্তাবনাটি এমডব্লিউইআর পেশ করছে। বাজেটে ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৮০০৮ ও উন্নয়ন ব্যয়-১০৪৬৪৩১ ও ঋণশোধ ২০৫০১ কোটি টাকা। সর্বমোট ব্যয় ১৪ লাখ ৭৪৪৩৯ ও বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকবে ১ লাখ ৬৫০০৯ কোটি টাকা।

বাজেটে আয়ের খাত সমূহ সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত করসমূহ হতে ৮৩৩২২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বহির্ভূত করসমূহ হতে ১৭৩২০১ ও কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৬৩৩৫২২ কোটি টাকা। সর্বমোট আয় হবে ১৬ লাখ ৩৯৯৪৮ কোটি টাকা।
আরিফ বলেন, ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে জনপ্রশাসনে ১ লাখ ৮৫১৪৯ কোটি টাকা যা জিডিপির ১২.৫৫ শতাংশ, পরিচালন ব্যয় ৪২৮০০৮ ও  উন্নয়ন ব্যয় ১৪৬৪৩১ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়নে ১৬৯০৭৫ কোটি টাকা যা জিডিপির ১১.৪৬ শতাংশ, পরিচালন ১৩৪৭৩ ও উন্নয়ন ১৫৫৬০২। প্রতিরক্ষায় ৩৪৫০৬, জিডিপির ২.৩৩ এবং পরিচালন ১৫৬৫১ উন্নয়ন ১৮৮৫৫। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ১২৬০৯৪, জিডিপির ৮.৫৪, পরিচালন ৬৭৩০৫ উন্নয়ন ৫৮৭৮৯। শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ২১৮৩২৬, জিডিপির ১৪.৮০, পরিচালন ১৪০৭৮০ ও উন্নয়ন ৭৭৫৪৬। স্বাস্থ্যে ৯২৭৫৯, জিডিপির ৬.২৪, পরিচালন ৪৪১৫৮ ও উন্নয়ন ৪৮৬০১। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে ৩২৭৫৬, জিডিপির ২.২২, পরিচালন ৭১৯২ উন্নয়ন ২৫৫৬৪। গৃহায়নে ৭৪১০, জিডিপির ০.৫০, পরিচালন ১৪০২ উন্নয়ন ৬০০৮। সংস্কৃতি ও ধর্ম, যুব মন্ত্রণালয়ে ৬৮৮০৩, জিডিপির ৪.৬৬, পরিচালন ৩৪৬৩ উন্নয়ন ৬৫৩৪০। বিদ্যুৎ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ৫৪৫৫০, জিডিপির ৩.৬৯, পরিচালন ১৮৬২ উন্নয়ন ৫২৬৮৮। কৃষিতে ২৫৭১৪৯, জিডিপির ১৭.৪৩, পরিচালন ৫২৭৭ উন্নয়ন ২৫১৮৭২। শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিসে ১০৭০৯৫, জিডিপির ৭.২৬, পরিচালন ২৫১০ উন্নয়ন ১০৪৫৮৫। পরিবহন ও যোগাযোগে ১০০৭৬৬, জিডিপির ৬.৮৩, পরিচালন ৩৪৭৬ উন্নয়ন ৮৭২৯১ কোটি টাকা।

এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবিতে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এরমধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ কর্মক্ষম তবে শ্রমশক্তির বাইরে অর্থাৎ বেকার। প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে আসে কিন্তু চাকরি পায় মাত্র ৭ লাখ বাকি ১৫ লাখ বেকার থাকে। এমডব্লিউইআর ২০১৮সালের ১৪ নভেম্বর দাবি জানিয়েছিল ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল নাগরিরে হাতে কাজ দিতে অর্থাৎ বাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করতে। কিন্তু সেদিকে রাষ্ট্রের মনোযোগ খুব কম।
সকলকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি প্রধান্য দিয়ে আরিফ বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২০ নং অনুচ্ছেদে অধিকার ও কর্তব্যরুপে কর্ম শীর্ষক (ক) অধ্যায়ে বলা হয়েছে: “কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মে জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

খ) রাষ্ট্র এমন অবস্থারসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসেবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে।” সে লক্ষে ৩৭টি মন্ত্রণালয়ে এবং বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ, কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, শিল্প, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এক বছরে ২০ লাখ মানুষের চাকরি, ৫৫ লাখ মানুষের বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ও ২৫ লাখ উদ্যোক্তাতৈরিসহ মোট এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সকল শিক্ষিত-ঝরেপড়া-নিরক্ষর মানুষের শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। এ জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে রাষ্ট্রের কাছে আমরা অনুরোধ করছি।
মো. রিয়াদ চৌধুরী বাজেটটির যুক্তিকতা তুলে ধরেন ও মো. রিয়াজুল ইসলাম রাষ্ট্রকে বাজেটের প্রস্তবনাগুলো দৃষ্টি দিতে অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য গত ১১ মে খসড়া বাজেটটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইমেইলে পাঠানো হয়েছিল।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর