বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২০ ৯:৫৯ এএম


কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় রাজি তবু অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২০-২১) থেকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল বুধবার ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে কমিশনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সভায় উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কেউ কেউ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, এত দিন ইউজিসি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির ধারণা নিয়ে এগোচ্ছিল। তবে গত মঙ্গলবার উপাচার্য পরিষদের সভায় সমন্বিত পদ্ধতির বদলে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তাব আসে। গতকালের সভায় সেই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়েই একমত হন সবাই। তবে কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সভায় জানান, তাঁদের একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা।

সভা শেষে ইউজিসি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। ভর্তির এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে ইউজিসি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এই পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব একাডেমিক কাউন্সিলের। এখন আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। এর পরপরই একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) কামরুল হাসান বলেন, ‘শিগগিরই দেশের সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হবে। এরপর সবার সম্মিলিত মতামতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে  কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান। এই পদ্ধতির প্রস্তাবক তিনি। অধ্যাপক মীজানুর রহমান জানান, ভারতে এই পদ্ধতিতে ভর্তি চালু আছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেহেতু নিজস্ব আইন আছে, তাই কেন্দ্রীয় ভর্তি পদ্ধতিতে প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ই যে যার ইচ্ছামতো ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে। এমনকি কেন্দ্রীয় পরীক্ষার বাইরে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়ও তারা অল্প হলেও একটা ফি নিতে পারবে।

অধ্যাপক মীজানুর বলেন, ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একবারেই বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করে দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এই পদ্ধতি অনেক জটিল। দেখা যায়, বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ বিষয় আছে, আবার সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়েও বিশেষ বিষয় আছে। ফলে তালগোলের সৃষ্টি হতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা আইএলটিএস বা জিআরইর মতো। এর মাধ্যমে শুধু একটি স্কোর দেওয়া হবে। পরে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেবে। যে বিশ্ববিদ্যালয় যে স্কোর চাইবে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই স্কোর পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবার অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সেখান থেকেই শিক্ষার্থী বাছাই করে নেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বেছে নেওয়াসহ সব স্বতন্ত্রতা বজায় থাকবে।’

জানা যায়, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এই তিনটি শাখায় আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা হবে। প্রশ্ন করা হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে। এই ভর্তি পরীক্ষা তদারকি করবে ইউজিসি।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর