বুধবার ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২:১৩ এএম


কি আছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও নীতামালায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:১৩, ২৩ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২০:৩৭, ২৩ জুলাই ২০১৮

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর, শিক্ষক-কর্মচারী বদলি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একইসঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে নারী কোটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ আলাদা দু’টি নীতিমালা প্রকাশ করেছে রবিবার (২২ জুলাই)।

নীতিমালা দু’টিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীর বয়স ৩৫ বছর করা হয়েছে। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিল করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ৬০ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত হবে। এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নীতিমালায়। দুটি নীতিমালাতেই বলা হয়েছে— সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনবোধে নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে পারবে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে,শিক্ষা জীবনে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে একটি তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি বা সমমান গ্রহণযোগ্য হবে।

নারী কোটা মানার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে দু’টি নীতিমালাতেই। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এ নিয়ম আগে থেকেই প্রচলিত থাকলেও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা ছিলো না। সরকার নারী কোটা মানার বাধ্যবাধকতা আরোপ করলে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এর আগে আপত্তি জানানো হয়েছিলো। নারী শিক্ষক না পাওয়ার কারণ হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হলে পরিপত্র জারি করে পরে তা শিথিল করা হয়। তবে এবার মাদ্রাসা নীতিমালায় এ কোটা পালন করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার প্রসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে শর্ত শিথিল করা হয়েছে দু’টি নীতিমালায়। বলা হয়েছে, নীতিমালার আওতায় আরোপিত যে শর্তই থাকুক না কেন- শিক্ষার প্রচার, প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে সরকার কয়েকটি ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করতে পারবে। সেগুলো হলো-শিক্ষায় পশ্চাৎপদ এলাকা, দারিদ্রপ্রবণ এলাকা, শিল্পাঞ্চল, ভৌগোলিকভাবে অনগ্রসর এলাকা যেমন— পাহাড়ি এলাকা, হাওর-বাওর ও চরাঞ্চল, নারী শিক্ষায় অনগ্রসর এলাকা, সামাজিকভাবে অনগ্রসর গোষ্ঠী, বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারের বিবেচনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত যেকোনো ক্ষেত্র।

নীতিমালায় এমপিও প্রদানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, শর্তপূরণ করলেই বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে তা নয়, সরকারের সামর্থ্য থাকতে হবে। এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য নতুন নীতিমালা অনুযায়ী অনলাইনে প্রতিষ্ঠানকে আবেদন জানাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ‘এমপিওভুক্তির আবেদন বাছাই কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি এমওিভুক্ত করতে আবেদন বাছাই করবে। অনলাইনে আবেদনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রেডিং পদ্ধতি মেনে এমপিওভুক্ত করা হবে।

কারিগরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে সুপারিনটেনডেন্ট, ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৯টি পদ, সংযুক্ত মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের জন্য ট্রেড ইন্সট্রাক্টর, বিষয়ভিত্তিক সহকারি শিক্ষক-কর্মচারীসহ নয়জন এবং স্বতন্ত্র উচ্চ মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের জন্য অধ্যক্ষ, চিফ ইন্সট্রাক্টর টেক/ননটেক, ইন্সট্রাক্টর (টেক), বিভিন্ন ট্রেডের শিক্ষক-কর্মচারীসহ ২০টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ বলেন, নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেই প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু অবজারভেশন ও সমন্বয় করে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হয়েছে।

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর