বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২০ ১৪:০৮ পিএম


কিশোর গ্যাং কালচার :সচেতন হওয়া দরকার

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

দেশ জুড়িয়া নগরকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং কালচার ভয়ংকর আকার ধারণ করিয়াছে। মাদকের নেশা হইতে শুরু করিয়া ইভ টিজিং, চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এমনকি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বা অন্য গ্যাং গ্রুপের সঙ্গে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করিয়া খুনখারাবি হইতেও পিছপা হইতেছে না গ্যাং সদস্য কিশোর অপরাধীরা। তাহারা একপর্যায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ড সদস্য বা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়। রাজনৈতিক ‘বড়োভাই’দের স্বার্থে প্রশ্রয়ের কারণে তাহারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে।

একসময় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড়ো বড়ো শহরে কিশোর গ্যাংদের তত্পরতা থাকিলেও বর্তমানে এই গ্যাং কালচার সমস্যা ছড়াইয়া পড়িয়াছে ছিমছাম, এমনকি নীরব জেলা-উপজেলা শহরগুলোতেও। ইত্তেফাকের এক খবরে বলা হইয়াছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় গ্যাং কালচারের অস্তিত্ব বিদ্যমান। শুধু রাজধানীতেই রহিয়াছে ৩৪টি সক্রিয় গ্রুপ। আর গত ১৫ বত্সরে কেবল রাজধানীতে কিশোর গ্যাং কালচার ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ৮৬টি খুনের ঘটনা ঘটিয়াছে।

গ্যাং কালচার বৃদ্ধিতে সমাজ উদ্বিগ্ন। নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে এই গ্যাং কালচার তৈরি হইতে দেখা যায়। আইনের ভাষায় ইহাকে বলা হয় জুভেনাইল সাবকালচার। লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও অশ্লীলতায় সয়লাব, বলিউড-হলিউডের ছায়াছবির হিংস্রতা ও পাশবিকতা, মাদকের বিস্তার, পারিবারিক অশান্তি ও অস্থিরতা, জীবনদর্শন ও জীবনধারার পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে গড়িয়া উঠিতেছে এমন গ্যাং কালচার।

তাহাদের এক একটি গ্রুপের নামও অদ্ভুত। নামকরণে দেশি-বিদেশি সিনেমা ও নাটকের প্রভাব বিদ্যমান। এই সব গ্রুপে অধিকাংশ কিশোরের বয়স ১৫ হইতে ১৭। প্রতি গ্রুপে গড়ে রহিয়াছে ১৫-২০ জন সদস্য। গত তিন বত্সরে (গত বত্সরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) শুধু র্যাব সদস্যরাই প্রায় ৪০০ গ্যাং কালচারের কিশোরকে গ্রেফতার করিয়াছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে আদনান কবির হত্যার পর গ্যাং কালচারের বিষয়টি অনেকের নজরে আসে।

জীবনের অতি মূল্যবান অংশের নাম তারুণ্য। উদ্যম ও গঠনের এ এক সতেজ অধ্যায়। তাহারাই নূতন সূর্য- সমাজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার। এই সূর্য ক্ষয় ও অবক্ষয়ের কালো মেঘে ঢাকা পড়িয়া যাউক, তাহা কাহারও কাম্য হইতে পারে না। অতএব, কিশোরদের গ্যাং কালচারের মতো অবক্ষয়ের রাহুগ্রাস হইতে অবশ্যই রক্ষা করিতে হইবে। ভোগবাদী ও আগ্রাসনবাদী মনোভাব, অহংকার ও তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিভঙ্গি, ঘৃণা ও হিংসার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের পরিহার করিতে হইবে।

তাহার বদলে সেবার মহিমা, বিনয়ের মাহাত্ম্য, সংযমের শক্তি, জীবনের মূল্য, মানবজীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের সন্তানদের সচেতন করিতে হইবে। ব্রোকেন ফ্যামিলির সদস্য এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হইতে ড্রপআউট শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে অধিক যত্ন নিতে হইবে। কিশোরদের প্রচলিত আইনে শাস্তি দেওয়ার বিধান নাই।

তাহার পরও বাস্তবতার নিরিখে তাহাদের সংশোধন করিবার জন্য পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করার এবং সংশোধনের জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা করিতে হইবে। তাহাদের জন্য শিশু-কিশোর সংশোধনগুলিরও উন্নয়ন দরকার। মোটকথা, এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, শিক্ষকমহলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। -ইত্তেফাক

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর