শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২০ ১:১০ এএম


কাল প্রাথমিকের ১ কোটি ৩৬ লাখ শিশু পড়বে প্রধানমন্ত্রীর লেখা চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭:৫৯, ১৬ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৮:৫০, ১৬ মার্চ ২০২০

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠি একযোগে পড়বে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৩৬ লাখ শিশু শিক্ষার্থী। ১৭ মার্চ বেলা ১১টায় ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে সমাবেশে এই চিঠি পড়বে। এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে চিঠি পাঠ করার ঘটনা বিশ্বে রেকর্ড গড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, শিশুদের কোমল হূদয়ে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করার জন্য এই উদ্যোগ। আব্রাহাম লিংকন ছেলের শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বাবাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই চিঠি পাঠের আয়োজন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন :“ছোট্ট সোনামণি, আমার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তোমার বাবা-মাকে আমার সালাম ও ভাইবোনদের স্নেহ পৌঁছে দিও। পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি শুভেচ্ছা রইল।

“আজ ১৭ই মার্চ। ১৯২০ সালের এই দিনে বাংলার মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এক মহাপুরুষ। তিনি আমার পিতা, শেখ মুজিবুর রহমান।

“বাংলাদেশ নামের এই দেশটি তিনি উপহার দিয়েছেন। দিয়েছেন বাঙালিকে একটি জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়ের সুযোগ। তাই তো তিনি আমাদের জাতির পিতা।

“দুঃখী মানুষদের ক্ষুধা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে নিজের জীবনের সব সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন। বারবার কারাবরণ করেছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে ব্যথিত করত। অধিকারহারা দুখী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি দ্বিধা করেননি। এই বঙ্গভূমির বঙ্গসন্তানদের একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলেন—তাই তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’।

“২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করছি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অনেক দেশ এই জন্মশতবার্ষিকী, অর্থাত্ ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপন করছে। সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

“প্রিয় বন্ধু, ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে জাতির পিতাকে। তাঁর নাম বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওরা পরেনি। ঘাতকেরা বুঝতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর রক্ত ৩২ নম্বর বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা বাংলাদেশে। জন্ম দিয়েছে কোটি কোটি মুজিবের। তাই আজ জেগে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষ সত্যের সন্ধানে। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। আজ শুধু বাংলাদেশ নয়, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনে নিয়েছে তাঁরই ত্যাগের মহিমায়।

“সোনামণি, জাতির পিতার কাছে আমাদের অঙ্গীকার, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়বই। আর সেদিন বেশি দূরে নয়। পিতা ঘুমিয়ে আছেন টুঙ্গিপাড়ার সবুজ ছায়াঘেরা মাটিতে পিতামাতার কোলের কাছে। তিনি শান্তিতে ঘুমান। তাঁর বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

“আমরা জেগে রইব তাঁর আদর্শ বুকে নিয়ে। জেগে থাকবে মানুষ—প্রজন্মের পর প্রজন্ম—তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতির পিতার দেওয়া পতাকা সমুন্নত থাকবে চিরদিন।

“তোমরা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে, মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করবে। জয় বাংলার জয়, জয় মুজিবের জয়, জয় বঙ্গবন্ধুর জয়। ইতি, তোমারই শেখ হাসিনা।”

No photo description available.

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর