রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪১ এএম


কারিগরি শিক্ষায় ১৩ চ্যালেঞ্জে সরকার

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

গতানুগতিক শিক্ষাধারায় ডিগ্রি ও মাস্টার্স পাস বেকারদের সংখ্যা কেবলই বাড়ছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে কর্মমুখী ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষাদানের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে মোট শিক্ষার্থীর ২০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে এই কাজে ১৩টি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। সেগুলো চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। তারা এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে ও আমূল পরিবর্তনে ৯ দফা সুপারিশ দাখিল করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে চাকরির বাজার চিহ্নিত করা হয়েছে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (টিভিইটি) ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির কর্মপরিকল্পনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেন, দেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। যে দেশের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সংখ্যা যত বেশি সে দেশের মাথাপিছু আয়ও তত বেশি। উন্নয়ন সূচকে তাদের অবস্থান তত ঊর্ধ্বে। তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আমরা প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষকদের বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হচ্ছে। প্রতিটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। সে চ্যালেঞ্জগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভে সরকার কারিগরি শিক্ষাকে শিক্ষা খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২০ সালে ২০ শতাংশ, ২০৩০ সালে ৩৫ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির সরকারি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার্থীর গড় বৃদ্ধির হার ছয় শতাংশ। আর কারিগরিতে এ হার ১৪ শতাংশ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ফলে তা পূরণে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছেন। ২০১৪ সালে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এ হার ছিল দুই শতাংশ।

কারিগরিতে ৪৪ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। এক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২৭। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, ১২ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নির্ধারণ করা হয়ছে। এ হিসাবে ২০২০ সালে এক লাখ ২২ হাজার ১১২ জন শিক্ষক দরকার হবে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

কর্মপরিকল্পনা তৈরির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালে শ্রমশক্তির চাহিদা সাত কোটি ৩১ লাখ পাঁচ হাজার ধরা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে সাত কোটি ৩৪ লাখ সাত হাজার শ্রমিক জোগান দেওয়া যাবে। ২০৩০ সালে ১০ কোটি ৭৩ লাখ পাঁচ হাজার শ্রমিক চাহিদার বিপরীতে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৯ হাজার শ্রমিক জোগান দেওয়া যাবে। এই চাহিদার আলোকে কর্মপরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে জনপ্রিয় করতে হবে। শ্রম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে চালু থাকা প্রতিষ্ঠানে নতুন ট্রেড ও টেকনোলজি বাড়ানো দরকার। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ট্রেড ও টেকনোলজি চালু করতে হবে।

লক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জ :শিক্ষক-কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ ও নতুন পদ সৃষ্টি, ইন্ডাস্ট্রি-ইনস্টিটিউট লিংকেজ উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, মানসম্পন্ন দক্ষতা প্রশিক্ষণ, তুলনামূলক মান অনুযায়ী কোর্স চালু করতে প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি, ভৌত অবকাঠামো ও ল্যাব বা ওয়ার্কশপ উন্নয়ন, টেক্সট বই প্রণয়ন ইত্যাদিকে বড় চ্যালেঞ্জ ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্প

কারখানায় শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা সংশ্নিষ্টদের পেশা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া, সকল কারিগরি শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া কারিগরি শিক্ষার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং কারিগরি শিক্ষাকে জনপ্রিয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ করে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে কারিগরি শিক্ষাকে জনপ্রিয় ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করতে অ্যাডভোকেসি প্রোগ্রাম চালু করা, ইনস্টিটিউশনাল ও অর্গানাইজেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

সুপারিশমালা :কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা, সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার হার বাড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি, সংযুক্ত ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি) পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পাঁচটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হলে কারিগরির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

সৌজন্যে: সমকাল

এডুকেশন বাংলা/এজে

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর